kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

পুশ ইন চেষ্টা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশি ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেব না

ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশি ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেব না

ভারত সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে বেশ কয়েকবার কিছু লোককে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে সীমন্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশি ছাড়া কাউকে সীমান্ত দিয়ে দেশের মাটিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। যদি সুনিশ্চিত হওয়া যায় যে যাঁরা আসতে চাচ্ছেন, তাঁরা বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও থেকে গিয়েছিলেন, তাহলে তাঁদেরকে ফেরত আনা হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আড়াইটার দিকে মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশের বৈঠক করেন। তাঁরা ৪০ মিনিটের মতো কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতের মেঘালয় রাজ্য সফরের জন্য রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিছুদিন আগে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ১৩ ডিসেম্বর  সেখানে যাচ্ছেন। ওই সফরের বিষয়ে আলাপ করতে ভারতীয় হাইকমিশনার এসেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে ‘পুশ ইন’ চেষ্টা বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এর আগে পুশ ইনের বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারত থেকে লোকজনকে বাংলাদেশের দিকে ‘পুশ ইন’ করা হচ্ছে। এটি আতঙ্কের বিষয় কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা মোটেও আতঙ্কের বিষয় নয়। আমরা কোনোভাবেই বাংলাদেশি ছাড়া কাউকে বাংলাদেশের মাটিতে ঢুকতে দেব না। ঢুকতে দেব না মানে, আমরা তো রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দিয়েছি, সেই বিষয় নয়। আমাদের নিশ্চিত হতে হবে, যাদের পুশ ইন করা হচ্ছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক কি না। যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়, তাহলে আমরা তাদের রিসিভ করতে পারি। আর যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক না হয়, তাহলে তাদের কোনোক্রমেই গ্রহণ করব না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা হয়তো দেখেছেন, বিভিন্ন বর্ডারে কিছু কিছু বাঙালি—এরা বাংলাদেশি কি না আমি সঠিকভাবে এখনো নিশ্চিত নই—তাদের বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছে। আমাদের বিজিবি কয়েক জায়গা থেকে এদের ঢুকতে দেয়নি, তাদের অ্যালাউ করেনি। এদের সংখ্যা হাজার হাজার নয়, কয়েক শ।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিগত দিনে বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি পাঁচজন, ১০ জন কিংবা ২৫ জন, ৫০ জন করে তারা পুশ ইন করানোর জন্য চেষ্টা নিয়েছে। তখন দেখেছি রোহিঙ্গাদেরও পুশ ইন করার একটা চেষ্টা নিয়েছিল। রোহিঙ্গারা বিভিন্নভাবে ভারতের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে ভারতে ঢুকে গিয়েছিল। তারা বাংলাদেশে চলে আসতে চেয়েছিল, আমরা তাদের ঢুকতে দিইনি। আমরা সুনিশ্চিত না হয়ে কাউকে আমাদের মাটিতে ঢুকতে দেব না, এটা হলো আমাদের কথা। আমাদের বিজিবিও সে জন্য সচেতন আছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে পাসপোর্ট নিয়ে অনেকেই বিদেশে যান। যখন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তখন তাঁদের পাঠিয়ে দেয়। এ রকম ঘটনা যদি কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই তাদের রিসিভ করব। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।’

বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে এটা উসকানিমূলক কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো উসকানি নয়। যদি হাজার হাজার বা শত শত হতো, তাহলে একটা আলোচনার ব্যবস্থা হতো। ভারত সরকার তো আমাদের কাছে কোনো চিঠি দেয়নি, কোনো আবেদনও করেনি। যারা গিয়েছিল তারাই পালিয়ে আসছে কি না, কিংবা অবৈধভাবে গিয়েছে বা অবৈধভাবে ফেরত আসছে কি না সব কিছু আমাদের জানতে হবে। না জেনে মন্তব্য করতে চাই না।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কেন মনে করছি তারা জোর করে পাঠাচ্ছে। ভারত সরকার আমাদের কিছু জানায়নি।’

আগের চেয়ে তো পুশ ইন চেষ্টার সংখ্যা বেড়েছে বলে জানানো হলে মন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো কিছু বেড়েছে, আমি সেটা অস্বীকার করছি না। তারা রাজ্যে একটু কড়াকড়ি করেছে। সে জন্য হয়তো আমাদের যাঁরা ইচ্ছা করে থেকে গেছেন কিংবা ভিসার তোয়াক্কা করেন নাই বা অনেক দিন ধরে থেকে গেছেন, এ বিষয়ে চিন্তা করেন নাই, তাঁরা হয়তো আবারও এ রকমভাবে আন-অফিশিয়ালি আসার জন্য চেষ্টা নিতে পারেন। এগুলো আমাদের ধারণা, যেহেতু আমাদের সঙ্গে তারা কোনোভাবে আলোচনায় আসেনি।’ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ অনেক বছর ধরে ওখানে (ভারতে) যাওয়া-আসা করে। কেউ শ্রমজীবী হিসেবে, কেউ পেশাদার হিসেবে যায়, কেউ অন্য কোনো সেবা, যেমন—চিকিৎসা বা পড়াশোনা করার জন্য যায়। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকলে হয়তো তাদের এই জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ রকম হতে পারে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা