kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

আদালতের কণ্ঠ

মুক্তিযোদ্ধারা অসচ্ছল থাকবেন এটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর

২০৮ জনকে গেজেটভুক্ত করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে




মুক্তিযোদ্ধারা অসচ্ছল থাকবেন এটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সরকারি ভাতা পাওয়া কোনো করুণা নয়, এটা তাঁদের অধিকার। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অসচ্ছল থাকাটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর। চাঁদপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া ও মাগুরা জেলার ২০৮ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্ত করার রায় দিয়ে হাইকোর্ট এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

আদালত একই সঙ্গে এই মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যাঁর যাঁর ভাতা বন্ধ করা হয়েছে তাঁদের ভাতা চালু করতে এবং বকেয়া ভাতা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা কার্যকর করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এক রায়ে এ নির্দেশ দেন।

রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

রায়ে চাঁদপুর জেলার ১৪৯ জন, পাবনার ৪০ জন, মাগুরার ১১ জন ও কুষ্টিয়ার আটজনের নাম গেজেটভুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নাম গেজেটভুক্ত না করা এবং তাঁদের মধ্যে চাঁদপুরের ১৪৯ জনের ভাতা বাতিল করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা আটটি রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু ও ব্যারিস্টার গালিব আমিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

হাইকোর্ট তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, স্বাধীনতার পর ৪৮ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা সম্ভব হয়নি।

আদালত আরো বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্তির যে সুপারিশ করেছে তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। ওই তালিকার ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে (জামুকা) নির্দেশ দেওয়া হলো।

আদালত বলেন, মুক্তিযোদ্ধা নন, এমন কারো নাম যদি গেজেটভুক্ত হয়ে থাকে তবে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আগে তাঁকে নোটিশ দিতে হবে। এরপর এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করে আইনানুয়ায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

রায়ের পর অমিত দাসগুপ্ত সাংবাদিকদের জানান, আদালত বলেছেন যে যথাসম্ভব সশরীরে হাজির হয়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করতে হবে। কারো নাম গেজেট থেকে বাদ দিতে হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা