kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

হটলাইনে অভিযোগ

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দুদকের অভিযান

৬ জনকে হাতেনাতে আটক, বিভাগীয় ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দুদকের অভিযান

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অফিসে গতকাল সোমবার অভিযান চালিয়েছে দুদক। এসময় ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে দুদক। এরপর তাত্ক্ষণিকভাবে শিক্ষা বোর্ড সচিব তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অভিযানের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সনদপত্র উত্তোলন, নাম সংশোধন, ফলাফল সংশোধন, ভর্তি বাতিল, এক কলেজে ভর্তি বাতিল করে নতুন কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনে সরকার নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিদ্যালয়
মঞ্জুরী নবায়ন, বিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলা, মহাবিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি, একাডেমিক স্বীকৃতি ও মহাবিদ্যালয়ের ছাড়পত্র প্রদানে নানা অনিয়ম-বাণিজ্যসহ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের তথ্য-প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হয়।
জানা গেছে, একজন ভূক্তভোগী দুদকের হটলাইন ১০৬-তে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল সকালে ও বিকেলে গোপনে ও প্রকাশ্যে এ অভিযান পরিচালনা করে। সকালে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসময় সেবা প্রত্যাশীদের নিকট নাম সংশোধন, সনদপত্র উত্তোলন ও সনদপত্র ইংরেজী ভার্সন রূপান্তরের নামে শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারীরা নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ৫০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা গ্রহণ করার প্রমাণ মিলে। এছাড়াও আবেদন ফরম গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে দেখা যায়। কাউন্টারের মাধ্যমে উক্ত আবেদনপত্র নেয়ার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ আবেদন ফরম বিভিন্ন কর্মচারীর মাধ্যমে সরাসরি নিয়ে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উৎকোচের বিনিময়ে কাজ করে দিতেও দেখা যায়। উৎকোচের ভাগ তাত্ক্ষণিকভাবে বিভিন্ন শাখার স্টাফদের দিতে দেখা যায়। এ চিত্র প্রায় সব শাখায় পরিলক্ষিত হয়।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, সেবা প্রত্যাশীদের এসএমএসের মাধ্যমে ডেলিভারী কাউন্টার হতে সংশ্লিষ্ট সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও সেটি তারা পাচ্ছেন না এমনটাই অভিযানকালে দেখা যায়। প্রার্থীরা বাড়তি টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে সেবা প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার পর্যালোচনা করে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের যাদের আটক করা হয়েছে তারা হচ্ছেন— পত্র প্রাপ্তি শাখার অফিস সহকারী মুরাদ আলী, দৈনিক মজুরিভিক্তিক কর্মচারী রুবেল খান, আসলাম হোসেন, মাধ্যমিক শাখার সহকারী পরীড়্গা নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন, অফিস সহাকারী শহিদুল ইসলাম ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আহসান আলী। তারা এসব অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পরে দুদক ওই ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে আলোচনা করে। সচিব ওই ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন।
এ সময় সচিব দুদক কর্মকর্তাদের জানান, দুদকের অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মঙ্গলবার একটি সভা করে অনিয়ম চিহ্নিত করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অভিযান পরিচালনাকারী দল শিক্ষা বোর্ড‘কে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড ঝুলানো, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও বহিরাগত দালাল চিহ্নিত করে তাদের বোর্ডে প্রবেশে নিষিদ্ধকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাত্ক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করেন। দুদক দল এ বিষয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করবেন বলে দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা