kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

সবিশেষ

মাছের শরীর-মন ভালো তো স্বাদও ভালো!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাছের শরীর-মন ভালো তো স্বাদও ভালো!

বন্দিদশায় মাছ কেমন থাকে? আসলে মানুষের মতোই মাছের ভালো থাকার চাবিকাঠি হচ্ছে খাদ্য। যেমন কার্প বা রুই জাতীয় মাছ সর্বভুক, তবে তাদের প্রোটিনেরও চাহিদা আছে। প্রজনন ক্ষেত্রে তাদের বেশি মাছ খাওয়ানো উচিত নয়। তার বদলে প্রোটিনে ভরপুর ডাকউইড আরো ভালো বিকল্প।

জুরিখ ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী লিন্ডা চিরেন মাছের কল্যাণ নিয়ে গবেষণা করছেন। কার্প মাছ ডাকউইড খেতে ভালোবাসে কি না এবং সেটি খেলে ভালো হজম হয় কি না, তিনি সেই পরীক্ষা করছেন। লিন্ডা মনে করেন, ‘পানির মানের পাশাপাশি খাদ্যও মাছের ভালো থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঠিকমতো পুষ্টি না পেলে ভালো থাকা  সম্ভব নয়।’

ডাকউইড কার্প মাছের কোনো ক্ষতি করছে কি না, এক মরা মাছের মধ্যেই তিনি সেই তথ্য যাচাই করতে পারেন। একটি বালতির মধ্যে তিনি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মাছগুলোকে অজ্ঞান করে দেন। কার্পের রক্তে কর্টিসলের মাত্রা পরখ করলে বোঝা যায়, প্রাণীটি

মানসিক চাপে ছিল কি না। তা ছাড়া মস্তিষ্ক, অন্ত্র ও যকৃতও আলাদা করা হয়। লিন্ডা চিরেন বলেন, ‘ডাকউইডের প্রভাব সম্পর্কে জানতেই আমরা যকৃৎ ও অন্ত্র বের করে নিই, ডার্কউইড মাছের জন্য ভালো না হয়ে থাকলে আমরা ধরে নিই যে সেটি অপুষ্টিতে ভুগছে। বিশেষ করে অ্যাকোয়াকালচারের ক্ষেত্রে খোরাক মাছের চাহিদা পূরণ না করলে এমন স্ট্রেস দেখা যায়। যে মাছ ক্রমাগত ভুল পুষ্টি পেয়ে চলেছে, সেটির মস্তিষ্কের বৈশিষ্ট্য জানা আমাদের জন্য জরুরি। ডাকউইড খেয়ে মাছ খুব ভালো থাকলেও মস্তিষ্ক বিশ্লেষণ করতে হবে।’

দ্বিতীয় একটি পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি খাদ্য অনুযায়ী মাছের মাংসের মধ্যে পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছেন। কারণ মনে রাখতে হবে, মানুষের খাদ্য হিসেবেই এই মাছ চাষ করা হয়।

মাছের কল্যাণ নিয়ে গবেষণা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। শুধু খোরাকই মাছের ভালো থাকার চাবিকাঠি নয়। বদ্ধ পানিতে মাছের সংখ্যাও মাছের ভালোমন্দ বোধের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। মাছের ভেড়ির দিকে তাকালে আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, খুব কম জায়গায় অত্যন্ত বেশিসংখ্যক প্রাণী ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই ধারণা মোটেই পুরোপুরি সত্য নয়।

লিন্ডা চিরেন মনে করিয়ে দেন, ‘অন্যদিকে অত্যন্ত কম ঘনবসতিও দেখা যায়। যেমন তেলাপিয়া মাছ যখন নির্দিষ্ট একটি জায়গায় আবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিটি মাছের যদি একই জায়গা পছন্দ হয় এবং তার ওপর অধিকার ফলাতে চায়, তখন সেই ভিটে রক্ষা করতে মাছ অত্যন্ত আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। তখন ঝাঁকের মধ্যে প্রবল অশান্তি সৃষ্টি হয়। মাছের ওপর মানসিক চাপ বেড়ে যায়। মাছের জাত অনুযায়ী ঘনবসতির ধারণা নির্ভর করে।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা