kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

মনোহরদীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন হলো মুক্তিযোদ্ধার

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মনোহরদীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন হলো মুক্তিযোদ্ধার

নরসিংদীর মনোহরদী থানা-পুলিশের দায়িত্ব অবহেলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই এক মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রয়াতের পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমকে (৭৫) নিজ গ্রাম পশ্চিম চরমান্দালিয়ায় দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। গত রবিবার বিকেল ৪টায় নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেন চরমান্দালিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. শহিদুল্লাহ। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরদিন সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মতিউর রহমান প্রয়াতের পরিবারকে জানান, জানাজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টায়। গতকাল নির্ধারিত সময়ের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে একজন কর্মকর্তা জানাজাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে পুলিশের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন প্রয়াতের পরিবার ও জানাজায় আসা লোকজন। অপেক্ষা করার পরও থানা-পুলিশের কেউ উপস্থিত না হওয়ায় ১১টা ৩৩ মিনিটে প্রয়াতের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এরপর ১১টা ৫০ মিনিটে পুলিশ উপস্থিত হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জানাজায় আসা লোকজন।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের ছেলে পুলিশ সদস্য কামরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে আত্মীয়-স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ৩৩ মিনিট পরও পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ না আসায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া বাবাকে দাফন করা হয়েছে।’

চরমান্দালিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আবুল হাসেমের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পরই আমি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। জানাজার নির্ধারিত সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত থাকলেও পুলিশের কোনো লোকজন উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই লাশ দাফন করতে হয়েছে।’

মনোহরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মতিউর রহমান তারা বলেন, ‘আমি জানাজায় গিয়ে পুলিশের উপস্থিতি না পেয়ে বারবার থানায় যোগাযোগ করেছি এবং তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ের পরও আধাঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার শামিল।’

মনোহরদী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, ‘বিজয়ের মাসে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বেলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে না পারা খুবই দুঃখজনক।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা