kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

প্যাকেজিংয়ের আড়ালে পলিথিন বাণিজ্য

জহিরুল ইসলাম   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্যাকেজিংয়ের আড়ালে পলিথিন বাণিজ্য

পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন কেনাবেচা ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রকাশ্যেই চলছে পলিথিনের বিকিকিনি। প্যাকেজিং শিল্পের জন্য পলিথিনের উৎপাদন বৈধ থাকায় এর আড়ালে কারখানাগুলোতে দেদার উৎপাদন হচ্ছে হ্যান্ডলিং (হাতে ধরার) পলিথিন। আর তা নানা কায়দায় পৌঁছে যাচ্ছে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে।

পুরান ঢাকার শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। আর উৎপাদন শেষে তা কারখানা থেকে পাইকারি দোকান পর্যন্ত পৌঁছতে নেওয়া হচ্ছে নানা কৌশল। এর মধ্যে কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে অথবা বস্তাবন্দি করে বহনের কৌশলই বেশি প্রচলিত। শুধু চকবাজার ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন মার্কেটেই এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তিন শতাধিক পাইকারি বিক্রেতা।

এ ছাড়া পুরান ঢাকার দেবিদাস ঘাট, চকবাজার ইসলামী উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশ, চকবাজার বড় কাটরা, আরমানীটোলা ও ইসলামবাগ এলাকার শতাধিক কারখানায় দিন-রাত চলে পলিথিন তৈরির কাজ। এসব এলাকায় পলিথিন তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম বিক্রির জন্যও রয়েছে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক প্যাকেজিং, রোল ম্যানুফ্যাকচারার্স ওনার্স অ্যান্ড ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু মোতালেব এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সমিতি হচ্ছে প্যাকেজিংয়ের। বিভিন্ন রকম অর্ডার নিয়ে তা প্যাকেজিং করা হয়। হ্যান্ডলিং পলিথিন নিষিদ্ধ করা হলেও প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে বাধা নেই। সে জন্য প্যাকেজিং পলির বিষয়টি ওপেন। এর বাইরে কেউ কেউ গোপনে হ্যান্ডলিং পলিথিন বিক্রি করে থাকতে পারে। আর করলেও তা ঝুঁকি নিয়েই করে।’

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরান ঢাকার চকবাজার ও মৌলভীবাজারের বেশির ভাগ মার্কেটে প্রকাশ্যে পলিথিন বেচাকেনা হচ্ছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পেয়ারা মার্কেটের সামনে অবস্থান করে দেখা যায়, পাইকারি দোকানের সামনে ভ্যান থেকে কাগজে মোড়ানো পলিথিন নামানো হচ্ছে। কিছু দোকানে কাগজ ছিঁড়ে পলির নমুনা দেখানো হচ্ছে। বস্তা ভর্তি করেও আনা হচ্ছে পলিথিন।

মালিকরা এসব কারখানায় খুব একটা আসেন না। কর্মচারীরাই পণ্য তৈরি করে পাইকারি দোকানে পৌঁছে দেন। তবে পাইকারি দোকানদারদের বেশির ভাগেরই কারখানা রয়েছে বলে জানা যায়। এসব ব্যবসায়ীর প্যাকেজিং ব্যবসার নামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পলিথিন বিক্রি করাই মূল ব্যবসা।

কথা হয় ইসলামবাগ থেকে হাজি নূর অ্যান্ড সন্স নামে পাইকারি দোকানের জন্য নীল রঙের হ্যান্ডলিং পলি নিয়ে আসা ভ্যানচালক সাদেক হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় প্রতিদিনই দোকানের জন্য মাল আনেন। দোকানের কারখানা ইসলামবাগে। সেখান থেকে পাইকারি দোকানে এনে বিক্রি করা হয়।

চকবাজারের পেয়ারা মার্কেট, লুত্ফর নাহার ম্যানশন, আবুল হোসেন মার্কেট, মৌলভীবাজার মাংসপট্টি মসজিদ গলি, সালাম মার্কেট, মাওলানা মার্কেট, শামসুদ্দিন প্লাজা ও এসরার ম্যানশনে তিন শতাধিক পাইকারি দোকানে প্রকাশ্যে বেচাকেনা হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন।

তানিসা প্যাকেজিং নামের দোকানের এক কর্মচারী বলেন, ‘ব্যবসা নিষিদ্ধ হইলেও পুলিশ আর নেতাগোরে টাকা দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আগে দৈনিক ৭০-৮০ হাজার টাকার পলি বিক্রি হতো। এখন তার তিন ভাগের এক ভাগও হয় না।’

জানা যায়, প্যাকেজিং পলি বলা হলেও বাস্তবে এগুলো হাতে বহন করার মতো করেই তৈরি করা হয়। পিপি, এইচডিপি, এলডিপি প্যাকেজিং পলিথিন পাইকারি বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন আকারের এই পলি পাঁচ পাউন্ডের বান্ডেল হিসেবে বিক্রি হয়, যার পাইকারি দাম রাখা হয় ৩২৫ টাকা। সে হিসাবে কেজি পড়ে ১৪৪ টাকা। বাজারে চার রকমের হ্যান্ডলিং (তোড়াসহ) পলিথিন রয়েছে, কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। এসব পলিথিনের রঙেও রয়েছে ভিন্নতা—কালো, নীল, সাদাসহ কয়েক রঙের।

চকবাজার ৩২ নম্বর বড় কাটরা নাসিমা মেডিক্যাল হলের পাশের গলিতে এক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, চারটি যন্ত্রে ছোট আকারের হ্যান্ডলিং পলিথিন তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি যন্ত্রের সামনে রয়েছেন একজন শ্রমিক। বড় কাটরা মসজিদ মাদরাসা মার্কেট গলিতে ঢুকে দেখা মেলে আরেকটি কারখানার। কারখানাটির মালিক নাজির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘পলিথিনের বিকল্প কী আছে বলেন? খালেদা জিয়ার আমলে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত কি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা হয়েছে? বরং ব্যবসায়ীদের হয়রানি বেড়েছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা