kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

এলাকা মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের

ডিএসসিসি ওয়ার্ড ১

জহিরুল ইসলাম   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এলাকা মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের

রাস্তায় ধুলা উড়লেও চলছে উন্নয়নকাজ। ফুটপাতে পথচারী হাঁটার জায়গায়ও আছে পা মচকানোর ভয়, তবে হাঁটা যায়। এলাকার নতুন কবরস্থানের পাশে সন্ধ্যার পর মাদক কেনাবেচার অভিযোগ অনেক পুরনো। এ বিষয়ে কাউন্সিলর বা প্রশাসনের কেউ খুব একটা খোঁজখবর রাখেন বলে মনে হয় না। সিটি করপোরেশনের একটিও কমিউনিটি সেন্টার না থাকা, সরু রাস্তায় যানজট, স্যুয়ারেজ লাইনের কাজে ধীরগতিতে সাধারণের ভোগান্তিসহ নানা পাওয়া-না পাওয়া নিয়েই আছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১ নম্বর ওয়ার্ডবাসী।

খিলগাঁও থানাধীন এই ওয়ার্ডে জনসংখ্যা প্রায় দুই লাখ আর ভোটার প্রায় ৪৮ হাজার। আয়তনে মাত্র ছয় বর্গকিলোমিটারের এ ওয়ার্ডে  পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটটি উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচটি কলেজ ও পাঁচটি মাদরাসা আছে। এ ছাড়া আছে ডজনখানেক সমিতি, সংসদ ও সংস্থা। খিলগাঁও এ-ব্লক, খিলগাঁও কলোনি সি-ব্লক ও খিলগাঁও সি-ব্লক এলাকা নিয়ে ওয়ার্ডটি। এখানে তিলপাপাড়া, প্রভাতিবাগ, ঝিলপাড়, পল্লীমা সংসদ, তালতলা, সাতিল ইলমাসহ রয়েছে প্রায় ১২টি মহল্লা।

এলাকাবাসী জানায়, কাউন্সিলর মিল্টন শুরুর দিকে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ না করলেও শেষ দিকে এসে উন্নয়নকাজে হাত দিয়েছেন। তবে সেটি ধীরগতির হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। ওয়ার্ডে কোনো কমিউনিটি সেন্টার না থাকায় বিয়ে, জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মধ্যবিত্তরা। কয়েকটি স্পটে মাদক কেনাবেচা চলছেই। স্থায়ী বাজার না থাকা, কিছু এলাকায় নোংরা পরিবেশ ও ধুলাবালি বেশি থাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বেশ ভোগাচ্ছে। অটোরিকশার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তালতলা সুপারমার্কেট এলাকাসহ সর্বত্রই সড়কে তীব্র যানজট লেগে থাকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি। ভোটারদের মধ্যেও চলছে বর্তমান কাউন্সিলদের কাজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। তিলপাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী সামছুদ্দিন কালু বলেন, কিছু সমস্যা তো আছেই। বর্তমান কাউন্সিলর আগে কাজ করেননি। এখন কাজ ধরেছেন। রাস্তা ও স্যুয়ারেজের কাজ আস্তে আস্তে হওয়ায় ধুলাবালি আর খানাখন্দ সবাইকে ভোগাচ্ছে।’ এলাকার বেশির ভাগ রাস্তার মাঝখানে স্যুয়ারেজ লাইনের কাজের গর্ত দেখা গেছে, যা থেকে তৈরি হচ্ছে ধুলা। আর অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাঙাচোরা রাস্তায় যানজট বাড়াচ্ছে। তিলপাপাড়া-গোড়ান এলাকার খিলগাঁও একতা সমাজকল্যাণ সংসদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, এলাকায় অন্যান্য উপদ্রবের সঙ্গে মাদক কারবারিরাও সক্রিয় আছে। তিলপাপাড়া, সি-ব্লক, খিলগাঁও থানার পেছনে কবরস্থানের পাশে মাদকের আড্ডা বসে। রাজীব নামের একজন ধরা পড়ার পর অবশ্য সম্প্রতি মাদক কেনাবেচা কিছুটা কমেছে এখানে।

সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা বলছেন, এলাকার সব সমস্যা সমাধানে তাঁরা কাজ করে যাবেন। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা প্রশস্ত করা, কার্যকর স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা, যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন তাঁরা। সম্ভাব্য প্রার্থী ডিএসসিসি ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘আমি আগে কখনো নির্বাচন করিনি। দলের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করে গেছি। দল নমিনেশন দিলে এবং এলাকার মানুষ নির্বাচিত করলে অন্তত দুটি কমিনিউটি সেন্টার, ওয়াকওয়ে, সড়ক প্রশস্ত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করা, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং অবশিষ্ট কাঁচা সড়কগুলোর কাজ করব। পাশাপাশি ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করা হবে প্রধান কাজ।’ আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী খিলগাঁও থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম জামান বলেন, ‘দল নমিনেশন দিলে এবং নির্বাচিত হলে তরুণদের নিয়ে একটি সত্যিকারের মডেল ওয়ার্ড গড়ে তুলব। সাবেক এমপি মির্জা আব্বাসের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করব।’ নির্বাচন এবং নিজের কাজ সম্পর্কে বর্তমান কাউন্সিলর ওয়াহিদুল হাসান মিল্টন বলেন, ‘সর্বাধুনিক মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়তে কাজ করছি। পাশাপাশি দ্রুত বৃষ্টির পানি সরানোর জন্য নর্দমাসহ পরিকল্পিত ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা হচ্ছে। কিছু কাজ এরই মধ্যে অনুমোদন হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে।’ এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মামুন ও জামায়াতে ইসলামীর খিলগাঁও থানা কমিটির নেতা কবির আহম্মেদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা