kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

সম্ভাব্য তিন প্রার্থী ঘিরে আলোচনা

ডিএনসিসি ওয়ার্ড ১৭

শাখাওয়াত হোসাইন   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সম্ভাব্য তিন প্রার্থী ঘিরে আলোচনা

রাজধানীর কুড়িল, শেওড়া, কুড়াতলী, খিলক্ষেত ও জগন্নাথপুর এলাকা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। অবস্থানগত কারণে ওয়ার্ডটির বেশির ভাগ সড়কই পাকা। এ ছাড়া পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাসংলগ্ন হওয়ায় ওয়ার্ডটির অবকাঠামোও ভালো। অবকাঠামো নিয়ে এলাকাবাসীর তেমন অভিযোগ না থাকলেও ঘিঞ্জি সড়ক, মেরামতে ধীরগতি এবং হকারদের দৌরাত্ম্য নিয়ে অসন্তুষ্টি আছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়া বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর স্বনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরিতে থাকায় এলাকার উন্নয়নে কম মনোযোগের বিষয়েও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে এরই মধ্যে কৌশলে প্রচার শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ওয়ার্ডটিতে বিএনপির প্রার্থীরা এখনো বিষয়টি জানান না দিলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অনেকটা প্রকাশ্যেই প্রচার শুরু করেছেন। সম্প্রতি ডিএনসিসির ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে এবং বড় দুই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ডিএনসিসির অন্যতম বৃহৎ এই ওয়ার্ডে গত নির্বাচনেই ভোটারসংখ্যা ছিল এক লাখ ২০ হাজারের মতো। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মূল ফটকের দক্ষিণ দিকের জগন্নাথপুর মহল্লা থেকে শুরু হয়ে শেওড়া-খিলক্ষেত আবাসিক এলাকা এবং খিলক্ষেত লেক সিটি পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। ভাটারা ও খিলক্ষেত থানার একাংশ পড়েছে ওয়ার্ডটিতে।

এলাবাসীর মতে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, নিকুঞ্জ ও খিলক্ষেত লেকসিটির আশপাশে অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো। তবে জগন্নাথপুর, কুড়াতলী ও জোয়ার সাহারা এলাকায় রাস্তা খুব সরু। ফলে যানজট লেগে থাকে এসব এলাকায়। ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ডা. জিন্নাত আলী সড়ক উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু কাজ করেছেন। তবে একটি স্কুলের পূর্ণকালীন প্রিন্সিপাল হওয়ায় কাউন্সিলর কার্যালয়ে ঠিকমতো উপস্থিত হন না। এ ছাড়া খিলক্ষেত রাস্তার পূর্বদিকে এবং কুড়িল বিশ্বরোডের মোড়ে জায়গা দখল করে আছে হকাররা। রেলওয়ের পাশেই বাজার দুটি অবস্থিত হওয়ায় হাঁটাচলায় সমস্যায় পড়েন পথচারীরা। উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও কিছুদিন পর আবার তা দখলে চলে গেছে হকারদের। এসব ব্যাপারে জনমনে কিছুটা অসন্তুষ্টি রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইমাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাউন্সিলর অফিসে সময় একটু কম দেন। শুনেছি তিনি একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল। ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট পাকা। তবে কুড়িল মিয়াবাড়ী এলাকা এবং জগন্নাথপুরে কাজের ধীরগতির কারণে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন বর্তমান কাউন্সিলর জিন্নাত আলী। তিনি এমবিবিএস পাস। বর্তমানে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নম্বর সদস্য। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে চাওয়ার পরও জিন্নাত আলীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এলাকায় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। দলের মনোনয়ন পেলে আসন্ন নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হতে চান জিন্নাত আলী।

এদিকে ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইসহাক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে যুক্ত। আগে তিনি ছাত্রলীগ ও যুবলীগ করেছেন। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এলাকার মানুষের সঙ্গেও সম্পৃক্ততা রয়েছে ইসহাক মিয়ার। এবার তিনি কাউন্সিলর পদে দলের মনোনয়ন পেতে চান। খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসলাম উদ্দিনও আছেন আলোচনায়। তবে দলের নির্দেশ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ নেই বলে তাঁরা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিন্নাত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দল মনোনোয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করব। আমার এলাকার ৭০ শতাংশ সড়কের কাজ শেষ। বাকি ৩০ শতাংশের কাজ চলমান রয়েছে। হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে রেলওয়ের জমি আবারা হকারদের দখলে।’

ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসহাক মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকে মুজিবীয় আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই তাগিদে জনপ্রতিনিধি না হলেও এলাকার মানুষের পাশে আছি। দলের জন্য জেলেও গিয়েছি। দল থেকে সবুজ সংকেত পেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা আছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা