kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

পাটসহ প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহার

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রস্তাব পাস

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রস্তাব পাস

‘প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ তন্তু ও টেকসই উন্নয়ন’ শিরোনামে পাটসহ প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারবিষয়ক একটি নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি  গৃহীত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। তিন মাসের টানা আলোচনায় পক্ষে-বিপক্ষে মতামত বিবেচনায় নিয়ে শেষে বাংলাদেশ সব সদস্য রাষ্ট্রকে এই প্রস্তাবের পক্ষে আনতে সক্ষম হয়।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভারত, চীন, রাশিয়া, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, মিসর, নাইজেরিয়াসহ ৬৮টি দেশ বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে ‘কো-স্পন্সর’ করেছে। এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম প্রস্তাব, যেখানে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই এবং সামাজিকভাবে লাভজনক কৃষিপণ্য পাট ও অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুর চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্যতা তুলে ধরা হয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জনে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবটিতে পাট এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তু যেমন—অ্যাবাকা, কয়ার, কেনাফ, সিসাল, হেম্প ও রামির ব্যবহার ও উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, যা এত দিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রায় অজানাই ছিল।

প্রস্তাব গ্রহণের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে সাহসী ও বাস্তবভিত্তিক নীতি-কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়িত করেছে। ক্ষুদ্র কৃষিজীবী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষিত করেছে। আর এই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই প্রাকৃতিক তন্তুগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত দ্রব্যগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উপকারিতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরে জাতিসংঘে প্রস্তাবটি উত্থাপন ও গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিল বাংলাদেশ।

প্রস্তাবটি গ্রহণের ফলে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উন্নয়ন ও সহযোগিতার পথ সুগম হবে এবং এর প্রচলিত ব্যবহারের বাইরে সৃজনশীল ও মূল্য সংযোজিত ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।

পরে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবটি পাট ও অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুজাত পণ্যের জন্য একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও সুনিপুণ ‘গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের’ পথ পাকা করল। ফলে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বৈশ্বিক বাজারে বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের পাট চাষি ও পাট ব্যবসায়ীদের নায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা। সব দেশকে এ ক্ষেত্রে একীভূত করতে অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুগুলোকেও আমরা নিয়ে এসেছি। প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রস্তাব পাস করাতে এই আন্তর্জাতিক সমর্থন আমাদের প্রয়োজন ছিল।’

দ্বিতীয় কমিটিতে গৃহীত এই প্রস্তাব আগামী মাসে সাধারণ পরিষদের প্ল্যানারিতে উপস্থাপন করা হবে। এখন থেকে দ্বিবার্ষিকভাবে এ প্রস্তাবটি নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা