kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

ভারতে ২০% পর্যটকই বাংলাদেশি

তিন বছরে সফর ৫৮ লাখ বাংলাদেশি পর্যটকের

মেহেদী হাসান   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে ২০% পর্যটকই বাংলাদেশি

ছবি: ইন্টারনেট

ভারতে প্রতি পাঁচজন বিদেশি পর্যটকের একজনই বাংলাদেশি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রায় দুই কোটি ৯৪ লাখ বিদেশি পর্যটক ভারত সফর করেছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৫৮ লাখ। এ সংখ্যা ভারত সফরকারী বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে ভারতের লোকসভায় উত্থাপিত এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল ভারতে পর্যটকদের উৎস শীর্ষ ৬০টি দেশের তালিকা দিয়েছেন। ওই তালিকায় সবার ওপরে আছে বাংলাদেশের নাম। ২০১৬ সালে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ৪০৯ জন, ২০১৭ সালে ২১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৭ জন এবং ২০১৮ সালে ২২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ জন বাংলাদেশি পর্যটক ভারত সফর করেছে।

ভারতে পর্যটকদের উৎস দেশের তালিকায় বাংলাদেশের পরেই আছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, শ্রীলঙ্কা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, চীন, জার্মানি ও রাশিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পর্যটক ভিসার পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা যোগ করলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সফরকারীর সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন ১৩ লাখ ৮০ হাজার ভিসা ইস্যু করেছে। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৭০ হাজারে। বর্তমানে সারা বিশ্বের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বাংলাদেশে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দীর্ঘ মেয়াদি ও ‘মাল্টিপল এন্ট্রি’ ভিসা ইস্যু করা হয়। ফলে একই ভিসা নিয়ে একাধিকবার ভারতে যাতায়াত করা যায়।

এছাড়া ভারতে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারের যে বিধি-নিষেধ ছিল তাও পর্যায়ক্রমে ওঠে যাচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকশেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈধ নথিপত্রের মাধ্যমে স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ বা প্রস্থানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে বলে উভয় পক্ষ সম্মত হয়, যার শুরু হবে আখাউড়া (ত্রিপুরা) এবং গোজাডাঙ্গা (পশ্চিম বাংলা) চেকপয়েন্ট দুটি থেকে।

ভারতের পার্লামেন্টে উত্থাপিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে বিদেশি পর্যটকদের মাধ্যমে ভারত বিদেশি মুদ্রা আয় করেছে প্রায় সাত হাজার ৮৮১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। পার্লামেন্টের ওই হিসাবে পর্যটকখাতে দেশওয়ারি আয়ের উল্লেখ নেই।

তবে বাংলাদেশি পর্যটক বা ভ্রমণকারীরা ভারত ভ্রমণে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করার তথ্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা সহজীকরণের ইতিবাচক দিক হিসেবে এ বিষয়টিও তুলে ধরেছিলেন। ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিলের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা সহজীকরণে প্রথম ইতিবাচক দিকটি হলো—ভারত সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে যোগাযোগ উৎসাহিত হয়েছে। তৃতীয় বিষয়টি সম্ভবত অনেকেরই অজানা। বাংলাদেশিরা ভারতে চিকিৎসা, পর্যটন, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন বা কেনাকাটা করতে অনেক টাকা ব্যয় করেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা