kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

মামলার রহস্যভেদে নজির রাখছে পিবিআই

এস এম আজাদ   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মামলার রহস্যভেদে নজির রাখছে পিবিআই

একের পর এক চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে পুলিশের বিশেষ ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী প্রতিবাদি নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলা, ৩০ বছর পর রাজধানীর সিদ্বেশরীতে সাগিরা মোর্শেদ হত্যার রহস্য উদ্‌ঘানের ঘটনা বেশ আলোচিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিবিআই শুধু কিছু আলোচিত মামলার তদন্তই করেনি; প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৭৭৮টি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ৫১ হাজার ৫৮০টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। এর বেশিরভাগই আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্ত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যা, সাইবার অপরাধ, প্রতারণাসহ ১৪ ধরনের ক্লুলেস মামলার তদন্তে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। উন্নত প্রশিক্ষণে লব্ধ জ্ঞান, ল্যাবরেটরির বিশেষ ডিভাইস ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ঘটনার মূল রহস্য খুঁজে বের করেন তদন্তকারীরা। সম্প্রতি ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্তের প্রযুক্তিও যুক্ত হয়েছে পিবিআইতে। তবে উন্নত দেশের তদন্ত সংস্থার আদলে অপরাধীর স্কেচ আঁকার নিজস্ব শিল্পী নেই পিবিআইয়ের। এ কারণে  ৪০ জন ‘ক্রিমিনাল স্কেচ আর্টিস্ট’ চাইছে পিবিআই। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের প্রয়োজনে পিবিআইকে ঢেলে সাজাতে নতুন আরো পাঁচ হাজার ২৮৪ জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

জানতে চাইলে পিবিআই’র প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিটি মামলায় আমরা উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে যাচাই-বাছাই করে সামনে এগুচ্ছি। কখনো সহজ্যে সাফল্য মেলে। আবার কখনো দীর্ঘ সময় লাগে। পিবিআই নিশ্চিত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়ে না। কারণ নীবিড় তদন্ত করাই আমাদের কাজ।’

তিনি আরো বলেন, ‘অপরাধীরা ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে অপরাধ করে দ্রুত তথ্যগুলো নিজেদের ডিভাইস থেকে মুছে ফেলে। ফলে অনেক সত্য আড়ালে থেকে যায়। এ থেকে নিষ্কৃতি পেতে ভূমিকা রাখছে ফরেনসিক ল্যাব। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিবিআই।’ তিনি বলেন, ‘এক দিকেই আমরা পিছিয়ে আছি- স্কেচ আঁকার লোক নেই। তাই আমরা জনবলের মধ্যে এটিও সংযুক্ত করেছি।’

২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে পিবিআই। ২০১৫ সালের ১০ জুন থেকে মামলা তদন্তে নামে সংস্থাটি। তবে বিধিমালা অনুমোদনের পর ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে আঁঁটঘাট বেঁধে মাঠে নামে তাঁরা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে (সিআর) গ্রহণ করা ৪৫ হাজার ১২১টি মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৫১৩টি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হয়নি ১৪ হাজার ৪২৮টি মামলায়। তদন্ত শেষে মোট প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ৪১ হাজার ৩২৭টির। এখনো তদন্ত চলছে ৩ হাজার ৭৯৪টি মামলার। এ ছাড়া ১২ হাজার ৬৫৭টি থানায় দায়ের করা (জিআর) মামলার তদন্ত পায় পিবিআই। এর মধ্যে ৭ হাজার ৬৮টি মামলার চার্জশীট দাখিলসহ ১০ হাজার ২৫৩টি মামলার তদন্ত শেষ করেছে পিবিআই। তদন্ত চলছে আরো ২ হাজার ৪০৪টি মামলার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সাল থেকে আদালত যেসব মামলার পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, সেসব মামলার বেশির ভাগ তদন্তের দায়িত্ব পালন করে পিবিআই। ছায়াতদন্ত করেও অনেক মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে বহু ঘটনায়। 

এতোদিন পিআই’র একটি মাত্র ল্যাবরেটরি ছিল ঢাকায়। গত বছরের শেষ দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে চালু হয়েছে আরেকটি ল্যাব। এর মাধ্যমে মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবসহ ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক ওয়ার্কস্টেশনে (অত্যাধুনিক ল্যাপটপ) বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে যে কোনো ল্যাপটপ থেকে যে কোনো তথ্য বের করে আনা যায়। ফরেনসিক ইমার্জিং সিস্টেম টিডিথ্রি সরঞ্জাম ব্যবহার করে যে কোনো হার্ডডিস্ক থেকে তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব। সার্ভার ও কম্পিউটারে থাকা অসংখ্য তথ্যের মধ্যে কাঙ্খিত তথ্য খুঁজে দেয় ডাটা রিকভারি স্টিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যদি কেউ অশ্লীল কিছু ছড়িয়ে দিয়ে পরে তা মুছে ফেলে, সেটিও শনাক্ত করা যায়। আর অজ্ঞাত মৃতদেহ শনাক্তে পিবিআইতে যে ডিভাইস রয়েছে, সেটি ৩৭টি জেলা অফিসে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, পিবিআই’র বর্তমানে জনবল ২  হাজার ২৯ জন। সেটি বাড়িয়ে ৭ হাজার ৩১৩ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা