kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

এমপিদের নজর দৃশ্যমান কাজে

সরাইল-আশুগঞ্জ উন্নয়নবঞ্চিত

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এমপিদের নজর দৃশ্যমান কাজে

শিক্ষার উন্নয়ন, মাদক নির্মূল, এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ স্থানীয় জনমানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী প্রতিশ্রুতি ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের প্রার্থীদের। নির্বাচন শেষে সেসবে নজর নেই স্থানীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি)। দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজেই নজর বেশি দিচ্ছেন এমপিরা। যেটুকু উদ্যোগ-আয়োজন তার পুরোটাই বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের ভবন ও সড়ক নির্মাণের মতো দৃশ্যমান কাজে। আবার বিএনপি দলীয় এমপির নির্বাচনী এলাকা সরাইল ও আশুগঞ্জ দৃষ্টিকটুভাবে উন্নয়নবঞ্চিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের এমপি বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম নির্বাচনের প্রাক্কালে এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী একটি কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে জোরেশোরেই। প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৯টি সড়ক সেতু নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। মৎস্য চাষ ও বিপণন আধুনিকায়নে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরির কাজও চলছে। এর পরও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বড় অংশই এখনো দৃশ্যমান নয়।

এমপি ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে সরকারের যেসব প্রতিশ্রুতি ছিল, তা নাসিরনগরেও বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। সারা দেশে দারিদ্র্যের হার যেখানে ২১ শতাংশ, সেখানে নাসিরনগরে ২২ শতাংশ। এ থেকে উত্তরণে কাজ শুরু করেছি। অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও চলমান।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবচেয়ে দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা সরাইল উপজেলা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের অন্তর্ভুক্ত এই উপজেলায় দাঙ্গা রোধে বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সে অনুযায়ী কোনো উদ্যোগ লক্ষণীয় নয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকেও এলাকাবাসী বঞ্চিত। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে ব্যাপক উন্নয়নকাজ করে যাচ্ছেন র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। দুই উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশ কিছু ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বিজয়নগরের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের যোগাযোগ স্থাপনে সড়ক নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি করছেন তিনি।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপির হাত ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। এই জনপ্রতিনিধি এলাকার প্রায় দুই হাজার বেকারের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনে কল করে নিয়মিত তাঁর সাড়া পাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী এই দুই উপজেলায় মাদক নির্মূলেও মন্ত্রী কঠোর অবস্থানে।

আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর চিন্তাধারাই হলো এলাকার উন্নয়ন ঘিরে। আখাউড়ায় একটি শিল্প এরিয়া স্থাপনেরও চিন্তা-ভাবনা চলছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের বর্তমান এমপি এবাদুল করিম বুলবুল উপজেলার পূর্বাঞ্চলে প্রশাসনিক উপজেলা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি। অবশ্য জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগে একাধিক সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে।

নবীনগরের বিদ্যাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, ‘উপজেলার পূর্বাঞ্চলে প্রশাসনিক উপজেলা করা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হলেও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই।’ কৃষক লীগের আহ্বায়ক রানা শামীম রতন এবং শিক্ষক খায়রুল এনামও একই কথা বলেন। 

এ ব্যাপারে এমপি বুলবুল বলেন, ‘আমিও চাই পূর্বাঞ্চলে প্রশাসনিক উপজেলা হোক। প্রশাসনিক স্থানটা কোন এলাকায় হবে, তা নির্ধারণ করে দিতে স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের বলা হলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না।’

এমপি এ বি তাজুল ইসলামের হাত ধরে অনেকটাই বদলে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) এলাকার চিত্র। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি। চলছে অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও।

সার্বিকভাবে বর্তমান সরকারের ১১ মাস সময়কালে জেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মোটামুটি খুশি সাধারণ মানুষ। সারা দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও বজায় থাকুক, সেই প্রত্যাশ্যা তাদের। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় উন্নয়নকাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা