kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুনে ১৫ দোকান ভস্মীভূত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানী সুপার মার্কেটে আগুনে ১৫ দোকান ভস্মীভূত

রাজধানীর টিকাটুলী এলাকার রাজধানী মার্কেটে গতকাল বুধবার বিকেলে আগুন লেগে ১৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর টিকাটুলী এলাকায় রাজধানী সুপার মার্কেটে গতকাল বুধবার অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের ত্বরিত পদক্ষেপে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে মার্কেটটি। কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে তাত্ক্ষণিক পানির উত্স না পাওয়ায় গলদঘর্ম হতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রতিদিনের মতোই মার্কেটে গতকাল বেচা-বিক্রি চলছিল। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মার্কেটের দ্বিতীয় তলা থেকে প্রথমে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধোঁয়া ছাপিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় পুরো মার্কেটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে ক্রেতা ও দোকানিরা হুড়োহুড়ি করে বেরিয়ে যায়। এ সময় ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাসেল নামের মার্কেটের দ্বিতীয় তলার এক দোকানি বলেন, ‘আমার সোফার গোডাউন ওপরে। পাশেই একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকান রয়েছে। সেখান থেকে আগুনের ফুলকি এসে আমার দোকানে পড়লে সোফার গোডাউন পুড়ে যায়। এখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।’

আল মাহের জুয়েলার্সের মালিক আবু তাহের জানান, নিচতলায় তাঁর দোকানসহ অলংকারের মোট ৪৩টি দোকান রয়েছে। আগুন লাগার পর যে যার মতো প্রাণ হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় শাটার নামানো হলেও অনেকে তালা মারতে পারেননি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিচতলার অলংকারের দোকানের মালিকরা যাঁর যাঁর দোকানের সামনে অবস্থান নেন। তবে কেউ দোকান খোলেননি। নিরাপত্তা দিতে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরাও সেখানে আছেন বলে ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান।

মার্কেটের নিচতলায় বাবুল মিজি ও ফারুক মিজি নামের দুই ভাইয়ের ‘ফয়সাল বেডিং’ নামের তিনটি দোকান রয়েছে। আগুনে তিনটি দোকানই ভস্মীভূত হয়েছে। এতে ৭৫ লাখ টাকার মালপত্র নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন ফারুক মিজি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে রাজধানী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রথমে এবং পরে আরো ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করে। এ সময় আশপাশের রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ব্যস্ততম সড়ক ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডে রাজধানী সুপার মার্কেটের ১৪-১৫টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আগুনে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তাত্ক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তদন্তের পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনা বা দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়, এবারও হবে। তার পরই বলা যাবে যে কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, রাজধানী সুপার মার্কেটে এক মাস দশ দিন আগে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়। সে সময় মার্কেটে বৈদ্যুতিক তারসহ আরো কিছু দুর্বলতা পাওয়া যায়। এসব ত্রুটি দূর করতে মার্কেট কর্তৃপক্ষকে এক মাস সময় দেওয়া হয়। মার্কেট কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের কাছে দুই মাস সময় চেয়ে নেয়। এর মাঝেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা