kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস ২৩ নভেম্বর

চেয়ারম্যান হবেন বর্তমান কমিটির বাইরে থেকে!

আবদুল্লাহ আল মামুন ও তৈমুর ফারুক তুষার   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চেয়ারম্যান হবেন বর্তমান কমিটির বাইরে থেকে!

নানা অপকর্মে বিতর্কিত যুবলীগের নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন আসছে। সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক তো বটেই, অন্য পদগুলোতেও বিতর্কিতদের স্থান হবে না। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী কোনো তরুণের হাতে যুবলীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার বিষয়ে সংগঠনটির অভ্যন্তরে জোরালো আলোচনা রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিংবা ছাত্রলীগের সাবেক কোনো নেতাকে দেখা যেতে পারে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা কালের কণ্ঠকে এমনটা  জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুবলীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সক্ষম এমন নেতাদেরই নেতৃত্বে আনা হবে। কোনো বিতর্কিত নেতাদের কমিটিতে স্থান হবে না। নেতাদের বয়সসীমা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ৫৫ বছর বেঁধে দিয়েছেন। এটি কঠোরভাবে মানা হবে।’

যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে তারা নেতৃত্বে আসুক, এটা সবার কামনা। এবারের কমিটিতে ওই ধরনের নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন বলে আমি মনে করি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুবলীগের চেয়ারম্যান পদটিতে সংগঠনের বাইরে থেকে কোনো একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এখনো নিশ্চিত কিছু জানাননি। তবে বর্তমান কমিটির কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়ে তাঁর মনোভাব স্পষ্ট।’

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আছেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির দুই সন্তান শেখ ফজলে নূর তাপস ও শেখ ফজলে শামস পরশ। সংসদ সদস্য তাপস বর্তমানে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যসচিব। ফজলে শামস পরশ এখনো দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আস্থাভাজন। এ দুই ভাইয়ের মধ্য থেকে একজনের হাতে যুবলীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে—এমন জোরালো গুঞ্জন রয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মাঝে। এ ছাড়া যুবলীগের বর্তমান কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান, বেলাল হোসাইন, ফারুক হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, মোতাহার হোসেন সাজুও চেয়ারম্যান পদের জোরালো দাবিদার।

সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনা রয়েছে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহীকে নিয়ে। তিনি বিগত কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক পদের জোরালো দাবিদার ছিলেন। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, মঞ্জুরুল আলম শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহমেদ নাসিম পাভেল ও ফারুক হাসান তুহিন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ হায়দার লিটন।

এ ছাড়া কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির নেতা তাজউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, নাসিম আল মোমিন ও এন আই আহমেদ সৈকত।

দলীয় একটি সূত্রের মতে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারীকে সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। মেধাবী ছাত্রনেতা হিসেবে দেশব্যাপী বাহাদুর বেপারীর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এ সাবেক ছাত্রনেতাকে এবার যুবলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচনে বরাবরই শেখ মনির পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিগত কয়েক দশক ধরে সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচনে শেখ মনির ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। তবে নানা অপকর্মে বিতর্কিত হয়ে পড়ায় এবার যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই দেখভাল করছেন। তিনি যুবলীগে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবেন। যুবলীগের নেতৃত্ব একজন পরিচ্ছন্ন নেতার হাতে তুলে দিতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি। সে ক্ষেত্রে শেখ মনির দুই সন্তানের একজনকে এই পদে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের বলেছেন, শুধু পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নয়, ভবিষ্যতেও যেন দানব হয়ে না ওঠে এমন নেতাদের হাতে যুবলীগের নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। যাদের মধ্যে নানা অপকর্মে যুক্ত হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা আছে তাদের যেন নেতৃত্বে না আনা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা