kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ডিসেম্বরে প্রকাশ নিয়ে সংশয়

রাজাকারের তালিকা তৈরিতে সাড়া নেই

নিখিল ভদ্র   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজাকারের তালিকা তৈরিতে সাড়া নেই

আগামী ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর জন্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাষ্ট্রের কাছ থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা রাজাকার-আলবদরের নাম সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও মাঠ প্রশাসন থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে তালিকা প্রকাশ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদরের তালিকা প্রকাশের দীর্ঘদিনের দাবি বিভিন্ন মহলের। এ দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয় বর্তমান সরকার। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ফের গত আগস্টে অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠকে তাগাদা দেওয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছ থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণকারী রাজাকারের তালিকা সংরক্ষণ করতে ডিসিদের বার্তা পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ওই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়। কিন্তু তাতে সাড়া না মেলায় গত ২৮ আগস্ট আবারও তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে আবারও অনুরোধ করা হয় রাজাকারের তালিকা সংরক্ষণের পাশাপাশি এক কপি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে। একই সঙ্গে পৃথক আরেক চিঠিতে এসংক্রান্ত সব তথ্য পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও বলা হয়। গত অক্টোবরে সংসদীয় কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা হয়। ওই সময় দেখা গেছে, মাত্র ৯টি জেলা থেকে তালিকা পাঠানো হলেও তা অসম্পূর্ণ। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসংক্রান্ত তথ্য  থাকলেও তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে পরবর্তী বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা উত্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার পাশাপাশি রাজাকার, আলবদরসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় থেকে ডিসিদের একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কাজটি ধীরগতিতে চলছে। কমিটির পক্ষ থেকে কাজটি দ্রুত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।’

রাজাকারের তালিকা প্রণয়ন ধীরগতিতে চললেও আগামী ডিসেম্বরে তা প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজাকার, আলবদরসহ স্বাধীনতাবিরোধীর তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। সারা দেশ থেকে আসা তালিকা একত্র করে তা দ্রুত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে।’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদরের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে। ১৯৯৭-৯৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের কোলাবরেটর সেকশন ৪৪ হাজার রাজাকার, আট হাজার আলবদর এবং তিন হাজার আলশামসের  তথ্য পায়। ওই সব তথ্য এখনো আছে কি না, সে বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দিতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর ওই সব তথ্য গায়েব করে দেয়। তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা পর্যায়ে রাজাকাররা ডিসিদের কাছে বেতন-ভাতা নিতো বলে প্রতি জেলায় তাদের তালিকা রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা