kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

এমপি লিটন হত্যা

মামলার রায় ২৮ নভেম্বর

সর্বোচ্চ শাস্তি চায় পরিবার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলার রায় ২৮ নভেম্বর

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শেষে আগামী ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালতের বিচারক। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক সাক্ষী ও আসামিদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেন।

গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আদালতে শুরু হওয়া যুক্তিতর্ক গতকাল বিকেল পর্যন্ত চলে। প্রথম দিন যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় গতকাল দ্বিতীয় দিন প্রায় তিন ঘণ্টা যুক্তিতর্ক করেন দুই পক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় আদালতে হত্যার পরিকল্পনাকারী বলে অভিযুক্ত সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খানসহ আট আসামির মধ্যে ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। জেলা কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তায় তাঁদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। যুক্তিতর্কের সময় মামলার সাক্ষী ও নিহতের স্বজনরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাক্ষ্যপ্রমাণসহ মামলার নানা দিক পর্যালোচনা করে আদালতে যুক্তিতর্ক তুলে ধরা হয়। যুক্তিতর্ক শেষে আগামী ২৮ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।’ পিপি আশা প্রকাশ করেন, এ মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, এমপি লিটনকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে এ মামলায় আসামি কাদের খানকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আসামিদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। মামলার রায় সন্তোষজনক না হলে তাঁরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত এমপি লিটনের স্ত্রী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই রায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছি। আমরা সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই এবং তা যেন দ্রুত কার্যকর হয়।’

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করে লিটনের বোন ফাহমিদা কাকলী বুলবুল। তদন্ত শেষে কাদের খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল আলোচিত এ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় ৩১ অক্টোবর। এ পর্যন্ত আদালতে মামলার বাদী, নিহতের স্ত্রী, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কাদের খান গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া আসামি কাদের খানের পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদি, শাহীন ও রানা জেলা কারাগারে রয়েছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে আসামি কসাই সুবল কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া ভারতে পলাতক রয়েছেন অপর আসামি চন্দন কুমার রায়। লিটন হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইনের মামলায় গত ১১ এপ্রিল আবদুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা