kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

বাধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা!

জামালপুর প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

জামালপুরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর স্বামীকে হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে জামালপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরদিন শনিবার সকালে ওই নারীর স্বামী খলিলুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দিয়ে পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। ‘পুলিশি হয়রানির’ কারণে ভুক্তভোগী ঘটনার দুই দিনেও মামলা করতে না পেরে স্থানীয় সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হন। পরে গত সোমবার রাতে প্রতিবেশী তিনজনসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরো  দুইজনকে আসামি করে ওই নারী থানায় মামলা করেছেন। রাতেই আসামি মো. শাওনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর দুই আসামি মো. ছানোয়ার হোসেন ছানু (৪০) ও রফিজ উদ্দিন (৩৫) পলাতক আছেন।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ১৪ বছর আগে জামালপুর সদর উপজেলার কাঠমিস্ত্রি খলিলুর রহমানের (৩৫) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। গত শুক্রবার রাতে স্বামী ও শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন না। রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেন ছানু, মো. শাওন ও রফিজ উদ্দিন তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে বাড়িসংলগ্ন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যান। সেখানে ওই তিনজন ধর্ষণ করেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয়ের দুই যুবক পাহারা দেয়।

বাদীর অভিযোগ, ধর্ষণের পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ছানোয়ারের বাড়িতে। সেখানে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁকে গাছের ডাল দিয়ে পেটানো হয়। এতে ভুক্তভোগীর দুই হাত, পিঠ ও পা জখম হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ছানোয়ার ওই নারীকে বলেন, খলিলুর তাঁর বাড়ির পাশের কাঁঠালগাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রাত ১১টার দিকে ওই নারীকে ছানোয়ারের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতনকারীরা রাতেই তাঁর স্বামীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করেন। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গেলেও কেউ মরদেহ নামানোর সাহস করেননি। খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. গোলজার আলম ওই বাড়িতে যান। পুলিশের উপস্থিতিতেই কাঁঠালগাছ থেকে খলিলুরের মরদেহ নামানো হয়। সে সময় ছানোয়ারের বাড়ি থেকে গুরুতর অবস্থায় ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর খলিলুরের মরদেহের সুরতহাল করে মরদেহটি জামালপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ সময় ওই নারী ও তাঁর শ্বশুর ইমান আলীকেও নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাঁরা মরদেহ গ্রামে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন। এ ঘটনায় পুলিশ কোনো মামলা না নিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।

পরদিন রবিবার ওই গৃহবধূ, শ্বশুর ইমান আলীসহ কয়েকজন থানায় গিয়েছিলেন অভিযোগ করতে। তাঁদের সারা দিন বসিয়ে রেখে বিদায় করে দেওয়া হয়। এরপর গত সোমবার রাত ৯টার দিকে তাঁরা জামালপুর প্রেস ক্লাবে যান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের সহায়তায় ওই নারীকে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই গৃহবধূ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। এতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও স্বামীকে হত্যার অভিযোগ এনেছেন ওই নারী।

ওই গৃহবধূ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার পরের দিন পুলিশ আমার স্বামীর লাশ নামায়। পুলিশ আমারেও ছানোয়ারের ঘর থেইকা বাইর কইরা নিয়া আসে। আমি পুলিশকে মাইরের ফোলা জখম দেখাই। আমার সঙ্গে অরা খারাপ কাজ করছে তাও কই। কিন্তু পুলিশ কিছুই করল না। অরাই আমার স্বামীরে মাইরা গাছে ঝুলাইয়া রাখছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

জামালপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. কে এম শফিকুজ্জামান জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। দু-এক দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ওই গৃহবধূকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের কেউ তখন অভিযোগ না করায় খলিলুরের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সোমবার রাতে গৃহবধূ তাঁর স্বামীকে হত্যা এবং তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মামলা নিয়েছি। দুই নম্বর আসামি মো. শাওনকে সোমবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। অন্য আসামিরা গাঢাকা দিয়েছেন।’

জামালপুর সদর থানার ওসি মো. ছালেমুজ্জামান বলেন, ‘গৃহবধূর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।’ মরদেহ উদ্ধারকারী এসআই গোলজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি তিনি দায়িত্বে অবহেলা করার মতো কিছু করে থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা