kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

আইসিজেতে শুনানি হবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার বিষয়ে

মিয়ানমারে অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের জেনোসাইড থেকে রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ
► প্রথম দফায় শুনানি ১০ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন

মেহেদী হাসান   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




আইসিজেতে শুনানি হবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার বিষয়ে

‘জেনোসাইডের’ প্রবল ঝুঁকিতে থাকা মিয়ানমারে অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার আবেদন নিয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের স্থায়ী আদালত ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে)’ শুনানি শুরু হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী ওই শুনানিতে আবেদনকারী গাম্বিয়া ও প্রতিপক্ষ মিয়ানমার—দুই পক্ষকেই ডাকা হয়েছে। প্রকাশ্য ওই শুনানিতে মূলত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় আইসিজের অন্তর্বর্তী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য গাম্বিয়ার অনুরোধের বিষয়টিই গুরুত্ব পাবে।

জানা গেছে, আগামী ১০ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডস সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা (বাংলাদেশ সময় ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) পর্যন্ত গাম্বিয়া আইসিজেতে তার আবেদন ও যুক্তি উপস্থাপন করবে। পরদিন ১১ ডিসেম্বর একই সময় যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পাবে মিয়ানমার। ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গাম্বিয়া এবং সেদিনই রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মিয়ানমারের যুক্তি উপস্থাপন করার কথা আছে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ‘উপযুক্ত সময়ে’ রায় দেবেন আইসিজে।

বিশ্বের মুসলিমপ্রধান ৫৭টি দেশের জোট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার  (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়া গত ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জেনোসাইড প্রতিরোধবিষয়ক কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে আইসিজেতে মামলা করে। তাতে মিয়ানমারের জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের প্রতিকার চাওয়ার পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

গাম্বিয়ার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গুরুতর নিগ্রহের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জেনোসাইড প্রতিরোধবিষয়ক কনভেনশনের আওতায় অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আদালতের উদ্যোগ নেওয়ার নজির আছে। চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষণ না থাকায় অস্থিতিশীল ও দ্রুত বদলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও আদালত আগে জেনোসাইড প্রতিরোধবিষয়ক কনভেনশনের আওতায় প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছেন।

গাম্বিয়ার আবেদনে উল্লেখ আছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা যে প্রয়োজন তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা এখনো প্রতিদিন হত্যার হুমকি, নির্যাতন, ধর্ষণ, অনাহারসহ নানা ধরনের নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা জেনোসাইডের শিকার হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনেও এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী দলের গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদনের অংশবিশেষ উল্লেখ করে গাম্বিয়া আবেদনে বলেছে, ‘মিয়ানমারে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা জেনোসাইডের শিকার হওয়ার গুরুতর ঝুঁকিতে আছে।’ গাম্বিয়া বলেছে, এই জরুরি পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য আদালতের সুরক্ষা প্রয়োজন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ওআইসির উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ গাম্বিয়ার মামলা সমর্থন করছে। আবার একই সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আইসিসি কৌঁসুলির দপ্তরের এমওইউ বাংলাদেশের সঙ্গে : এদিকে রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুতির কারণগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি)। ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ায় আইসিসির কৌঁসুলির দপ্তর তদন্তকাজের জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে। বাংলাদেশ ও আইসিসির কৌঁসুলির মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক এবং আইসিসির কৌঁসুলির দপ্তরের পক্ষে কৌঁসুলি ফাটু বেনসুডা ওই এমওইউ সই করেন। তদন্তপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং রীতি অনুযায়ী আইসিসির কৌঁসুলির শিগগিরই বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আইসিসি ও আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উদ্যোগের ফলে দেশটির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আইসিসি ও আইসিজেতে মামলাগুলো কোন দিকে যাবে তা এখনই বলার সুযোগ নেই। মামলা ও রায় কার্যকর করার জন্য মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা