kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

টাকা হরিলুট ও অনিয়ম তদন্তে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাকা হরিলুট ও অনিয়ম তদন্তে দুদক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের নামে বাণিজ্য, প্রকল্পের টাকা হরিলুটসহ নানা অনিয়মের তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস সোবহানসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম তদন্তে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করতেও বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাবির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান ২০১৭ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মেয়ে সানজানা সোবহান এবং মেয়েজামাই এ টি এম সাহেদ পারভেজকে চাকরি দেওয়াসহ রাবির বিভিন্ন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা হরিলুটে মেতে উঠেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসব নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়গুলো নিয়ে তদন্তে নামে দুদক।

ওই চিঠির সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের মে মাস থেকে ২০১৯ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব নিয়োগ হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কতজন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন তাঁর পূর্ণাঙ্গ বিবরণী দিতে বলেছে দুদক। এই নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন করে আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৩তম এবং ৪৭৫তম সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবরণীর ফটোকপিও চাওয়া হয়েছে। ওই সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেখানেও নানা গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ও উপাচার্যের মেয়ে সানজানা সোবহানের নিয়োগের নীতিমালা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সব আবেদনকারীর আবেদনপত্র, একাডেমিক মেধাক্রম ও নিয়োগপত্রের ফটোকপি চাওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান উপাচার্য নিয়োগের পর শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক এ টি এম সাহেদ পারভেজ ও জুলহাসের নিয়োগেও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। তাঁদের নিয়োগের সব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।

রাবির ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন রিসার্চ (আইইআর) বিভাগের সর্বশেষ আটজন শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালার ফটোকপিসহ আবেদনকারীদের দেওয়া সব কাগজপত্রের ফটোকপিও চেয়েছে দুদক।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ও সাইকোলজি বিভাগে সর্বশেষ চারজন শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালাসহ অন্য সব কাগজের ফটোকপি চাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক এফ এম আলী হায়দার ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিবলী ইসলামের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য চেয়েছে দুদক।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এম এ বারি ফোন রিসিভ করেননি। দুদকের তদন্তের চিঠি প্রসঙ্গে তাঁকে খুদে বার্তা দেওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। একইভাবে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস সোবহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

দুদকের রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ ধরনের কিছু বিষয় নিয়ে দুদক কাজ করছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা