kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ২৭ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ২৭ নভেম্বর

ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার রায় আগামী ২৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। গতকাল রবিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান রায়ের তারিখ ধার্য করেন।

একই সঙ্গে রায়ের দিন সব আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৭ নভেম্বর আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করে। অন্যদিকে গত কয়েক তারিখে যুক্তিতর্ক শুনানি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গতকাল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আসামিদের নির্দোষ দাবি করে তাঁদের বেকসুর খালাস দাবি করেন তাঁদের আইনজীবীরা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারিতে অতর্কিতে হামলা করেন পাঁচ জঙ্গি। তাঁরা ভেতরে থাকা সবাইকে জিম্মি করেন। তাত্ক্ষণিক অভিযানের সময় জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হন। পরে হলি আর্টিজান থেকে ১৭ বিদেশি ও তিন বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেন জঙ্গিরা।

দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম এই জঙ্গি হামলার ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় গত বছর ২৩ জুলাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩) এর ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় আসামিদের বিচারের ব্যবস্থা করতে এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এই ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

আট আসামি হলো গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, নওগাঁর আসলাম হোসেন ওরফে আসলামুল ইসলাম ওরফে রাশেদ ওরফে র্যাশ, কুষ্টিয়ার আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, জয়পুরহাটের হাদীসুর রহমান ওরফে সাগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, বগুড়ার রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, একই জেলার মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও রাজশাহীর শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ। মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ পলাতক রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে আছেন। অভিযুক্ত সবাই নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

আটজনকে অভিযুক্ত করা হলেও হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় ২১ জঙ্গির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ঘটনার দিন সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হন। তাঁরা হলেন রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এই পাঁচজনই সরাসরি হলি আর্টিজানে হামলা চালায়। এ ছাড়া নব্য জেএমবির প্রধান সমন্বয়কারী তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম মারজান, বাশারুজ্জামান, মেজর জাহিদুল ইসলাম, রায়হানুল কবির রায়হান ওরফে তানভীর ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোটো মিজান হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে পাওয়া যায়। এই আটজন বিভিন্ন সময়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাঁদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত বছর ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার বিচার শুরু হয়। এ মামলায় ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা