kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

জাতিসংঘের উপগ্রহচিত্র

ভাসানচরে পানি ঢোকেনি তীব্র জলোচ্ছ্বাসেও

মেহেদী হাসান   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাসানচরে পানি ঢোকেনি তীব্র জলোচ্ছ্বাসেও

গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে তীব্র জলোচ্ছ্বাসের সময়ও নোয়াখালীর ভাসানচরে জোয়ারের পানি ঢোকেনি। জাতিসংঘ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এ বিষয়টি জানতে পেরেছে। এর আগে ১০ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) “ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম” শীর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও তীব্র জলোচ্ছ্বাস ও পানির উচ্চতা বাড়া সত্ত্বেও ভাসানচরে জোয়ারের পানি ঢুকতে না পারার কথা বলা হয়েছিল।

জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ সেবা দেওয়া সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত ইউএনওস্যাটের গত ১৪ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের কোনো বন্যা বা পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গত ২ থেকে ১৩ নভেম্বর ১০ দিন ভাসানচর এলাকায় বৃষ্টিপাতের হার ছিল ৭৫ মিলিমিটার থেকে ১২৫ মিলিমিটারের মধ্যে। সে সময়ের পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে ইউএনওস্যাট এ তথ্য দিয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল গত ৯ নভেম্বর মধ্যরাতে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানে। সে সময় উপকূলীয় এলাকাসহ সারা দেশেই বৃষ্টি হয়। গত ১০ নভেম্বর বাংলাদেশের স্থলভাগ দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল স্থল নিম্নচাপ আকারে অতিক্রম করা সময় ভাসানচর থেকে সর্বনিম্ন দূরত্ব ছিল ৭০ কিলোমিটার।

ইউএনওস্যাটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের সময় ভাসানচরের পূর্ব দিকে সবচেয়ে বেশি জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। সে সময় ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১ দশমিক ৮ মিটার। অন্যদিকে ভাসানচরে স্থাপনাগুলো ঘিরে বাঁধের উচ্চতা ২ দশমিক ৪৭ মিটার।

এর আগে মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানার সময়ের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করেও জাতিসংঘের ওই সংস্থাটি জানায়, ওই ঝড়ের সময়ও ভাসানচরে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার আলামত মেলেনি।

এদিকে গত রবিবার থেকে জাতিসংঘের একটি কারিগরি প্রতিনিধিদলের ভাসানচর পরিদর্শন করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের কাছে ওই কারিগরি দলের কাজের ধরন বিষয়ে জানতে চেয়েছে। সেটি চূড়ান্ত হওয়ার পর উভয় পক্ষ মিলে ওই সফরের তারিখ নির্ধারণ করবে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের একাংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর পরিকল্পনা নিয়ে শুরু থেকেই জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর সংশয়-দ্বিধায় তাদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। সরকারের প্রতিনিধিরা বলছেন, কক্সবাজারে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার কারণে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই চাপ কিছুটা কমাতে এবং রোহিঙ্গাদের তুলনামূলক ভালো পরিবেশ দিতে সরকার বিপুল অর্থ খরচ করে নোয়াখালীর ভাসানচর পুনর্গঠন করে সেখানে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

কিন্তু জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ কিছু পশ্চিমা দেশ ও মানবিক সহায়তা সংস্থা শুরু থেকেই ভাসানচরের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে আসছে। সরকারি বিভিন্ন মহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া সংস্থাগুলোর অনেকে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার কথা চিন্তা করেই ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে, কক্সবাজারে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীদের জন্য থাকার যে সুব্যবস্থা আছে তা ভাসানচরের ক্ষেত্রে থাকবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করতে হলে সেখানে তাদের খাদ্যসহ অন্যান্য মানবিক সেবা সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গতকাল রবিবার ঢাকায় চীনা দূতাবাসে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন প্রথম দিন থেকেই সম্পৃক্ত আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে এরই মধ্যে তিন দফা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুপ্রতিম আলোচনার সুযোগ করে দিতে চীন অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা