kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

দরে নৈরাজ্য থামার আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দরে নৈরাজ্য থামার আভাস

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের মধ্যে পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্য থামার ইঙ্গিত মিলছে। প্রশাসনের তৎপরতায় নৈরাজ্য পুরোপুরি না থামলেও ঊর্ধ্বমুখে ছুটে দামের ঘোড়ায় লাগাম পড়েছে। গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের বাজারে স্থিতি, আবার কোথাও কোথাও কিছুটা কমে বিক্রি হয়েছে। তার পরও বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে।

টিসিবির খোলাবাজারে গতকালও সাধারণ ভোক্তার বিপুল ভিড় লক্ষ করা গেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো বিবরণীতে বলা হয়, পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজি করায় রাজধানীর শ্যামবাজারের দুই ব্যবসায়ীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

সারা দেশ থেকে কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে।  মানভেদে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

হিলি স্থলবন্দরে এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের মানভেদে কেজিতে দাম কমেছে ৫০  থেকে ৬০ টাকা। যে পেঁয়াজ আগের দিন খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, গতকাল তা ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। আড়তে গতকাল মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। গত বৃহস্পতি ও শনিবার তা ছিল ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। আর চীনের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ১৬০ টাকায়, যা দুদিন আগে বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকায়। আর খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে তুরস্ক ও মিসরের পেঁয়াজ খুব বেশি নেই।

এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা কমে যাওয়ার পেছনে তিনটি কারণের কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। সেগুলো হচ্ছে—দাম চড়া হওয়ায় ভোক্তারা খাওয়া কমিয়ে দেওয়ায় খুচরা বাজারে চাহিদা কমে গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং আগামীকাল মঙ্গলবার কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আসার খবর প্রচার হওয়া। দাম কমে আসার এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ কাঁচা পণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, খাতুনগঞ্জে গত শনিবার মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসে ৮৪ টন। আর গতকাল এসেছে ৫৬ টন। চট্টগ্রামের বাজারে মিসর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজ ঢুকেছে নামমাত্র। এর পরও বাজারে দাম বাড়েনি, উল্টো কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছু আমদানিকারক ও কমিশন এজেন্টদের কারসাজিতে দেশে পেঁয়াজের দাম বিশ্ব রেকর্ড ছুঁয়েছে। ৩০-৪০ টাকার পেঁয়াজের দাম আর কত বাড়বে। আর দাম বাড়ার সুযোগ নেই।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সোলায়মান বাদশা মনে করছেন, মানুষ পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দেওয়ায় চাহিদা কমে এসেছে। গত কয়েক দিনে খাতুনগঞ্জের বেচাকেনা কমে যাওয়াই তার প্রমাণ। এর ফলে দামও কমেছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বাজারে সরবরাহ সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল। এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এদিকে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য বরিশালের গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযানে আসার খবর পেয়ে গুদামে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র টরকী বন্দরে গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পেঁয়াজের একটি গুদামে অভিযান চালানো হলেও সেখানে মজুদ করা পেঁয়াজ পাওয়া যায়নি।

ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো সিন্ডিকেট গড়তে না পারে সে জন্য উপজেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে এবং এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গতকাল পুলিশের এক অভিযানেই ময়মনসিংহের সর্ববৃহৎ পেঁয়াজের আড়ত মেছুয়া বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে আসে। সকালেই এ বাজারে আড়তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২০০ টাকা। পুলিশ অভিযান চালালে ব্যবসায়ীরা তা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি শুরু করেন। পুলিশ সুপার (সম্প্রতি পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) শাহ আবিদ হোসেন এই অভিযান পরিচালনা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গতকাল ২২৫ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়। সকালে শিবগঞ্জ বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ‘শুনলাম পুলিশ হস্তক্ষেপ করে মজুদ করে রাখা পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রির ব্যবস্থা করেছে।’

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত এলাকা আসামপাড়া বাজারে দুটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ জব্দ করার পর গতকাল সেগুলো ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। জানা যায়, শনিবার বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতেমা ক্রয় রসিদ দেখাতে না পারায় আসামপাড়া বাজারের স্বপন মিয়া ও সোহেল মিয়ার গুদামের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ জব্দ করেন। এ সময় স্বপন মিয়াকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

লাকসাম প্রতিনিধি জানান, লাকসাম পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ পাইকারি বাজারে গতকালও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ছিল ২৪৫ থেকে ২৫০ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা