kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

অর্থমন্ত্রী বললেন

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন জাতির শএু

জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৯-২১ নিয়ে সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন জাতির শএু

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের জন্য মারাত্মক সমস্যা। এটি শুধু অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে না, সামষ্টিক অর্থনীতিরও ক্ষতি করে। এটি জাতির এক নম্বর শএু। তাই এই সমস্যা সমাধানে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। গতকাল রবিবার এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৯-২০২১’ বিষয়ক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন নিয়ে আমরাও সমস্যায় আছি। তবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব সমস্যা একা সমাধান করা যাবে না। সব রাষ্ট্রের সহায়তা লাগবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার মতো অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম বলেন, ‘মানি ল্ডারিং বৈশ্বিক সমস্যা। মানি লন্ডারিংয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই হয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে। এ জন্য অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সব রাষ্ট্রের সহায়তা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্বের একটি দেশে ধর্মীয় মূল্যবোধ ব্যবহার করে প্রবাসীদের থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই টাকা বাংলাদেশে জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদ উসকে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়। আমরা শত চেষ্টার পরও দেশটিকে বিষয়টি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। সম্প্রতি দেশটি নিজেই এ সমস্যায় পড়ে বিষয়টি উপলব্ধি করেছে। পশ্চিমা দেশটির এ উপলব্ধি আগে হলে আমরা অনেক ক্ষতি সামাল দিতে পারতাম।’ একইভাবে সিঙ্গাপুরেও টাকা সংগ্রহ করে বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সে সমস্যার সমাধান করা গেছে। ফলে সিঙ্গাপুরে থাকা এক লাখ বাঙালি এসব থেকে সরে এসেছে।’

সেমিনারে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে তৃতীয় জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৯-২০২১-এর বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বৈশ্বিক ফিন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) নিয়ম-নীতি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলছে বাংলাদেশ। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অর্থপাচারের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আমদানি-রপ্তানিতে পণ্য মূল্য কমবেশি দেখানো। এটি প্রতিরোধে এনবিআর কাজ করছে। 

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কমিশনের তৎপরতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএফআইইউ কখনো কখনো একই রিপোর্ট একাধিক এজেন্সিকে দিয়ে থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা