kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

হাজতি কয়েদিদের পায়ে ফুটবল

দর্শক আট হাজার বন্দি

ওমর ফারুক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাজতি কয়েদিদের পায়ে ফুটবল

কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের মাঠে ফুটবল ম্যাচ। ছবি : সংগৃহীত

মাঠে চলছে জমজমাট ফুটবল ম্যাচ। দর্শক আট হাজারেরও বেশি। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, মুহুর্মুহু করতালিতে খেলা এগিয়ে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য বাংলাদেশে খুবই সাধারণ। ফুটবলপ্রেমী এ জাতি যত্রতত্র এমন দৃশ্যের জন্ম দেয়। কিন্তু যে ফুটবল ম্যাচের বর্ণনা এখানে দেওয়া হচ্ছে তা বিরলই বটে। যাঁরা দর্শক, যাঁরা খেলছেন, তাঁরা সবাই কারাগারের বাসিন্দা। কেউ হাজতি কেউবা কয়েদি। নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বা অভিযুক্ত আসামি হলেও এঁরাই খেলছেন নিয়ম মেনে। আনন্দ পাচ্ছেন এবং দিচ্ছেনও। এমন দৃশ্যকে বিরল বলা হচ্ছে কারণ আমাদের দেশে কারাগারে এমন ফুটবল ম্যাচের আয়োজন সাধারণত হয় না। 

এমনটিই সম্ভব হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মাঠে। সেখানে চলছে ফুটবল টুর্নামেন্ট। এক দলের সঙ্গে আরেক দলের খেলা হচ্ছে। আর খেলার সময় দর্শক হিসেবে উপস্থিত থাকছেন অন্য বন্দিরা। তবে জঙ্গিসংশ্লিষ্ট ও ফাঁসির আসামি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে যাঁরা বন্দি রয়েছেন তাঁদের এই খেলায় অংশ নেওয়া বা দেখারও কোনো সুযোগ নেই। কারা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এ টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টটিতে অংশ নিচ্ছে ১০টি দল। যার মধ্যে আটটি দলে থাকছেন বন্দিরা। অন্য দুটি দলে থাকছেন মেডিক্যাল সেক্টর ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কারাগারের একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আটটি ভবনে ৯ হাজারের বেশি বন্দি রাখা হয়েছে। ওই সব ভবনের বন্দিদের মধ্য থেকেই খেলোয়াড় হিসেবে নাম লিখিয়েছেন অনেকে। আট ভবনের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী, মধুমতি, করতোয়া, রূপসা, মনিহার, পদ্মা, মেঘনা ও যুমনা। প্রতিটি ভবন থেকেই টিম দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মেডিক্যাল ব্রাঞ্চের একটি ও কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরেকটি টিম গঠন করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব উল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কারাগারকে এখন সংশোধনাগার বলা হয়। বন্দিদের সংশোধনের অংশ হিসেবে এখানে খেলাধুলার আয়োজন প্রায়ই করা হয়। কিছুদিন আগে দাবা খেলা হয়ে গেল। তবে ফুটবল খেলতে বড় জায়গা লাগে, ফলে এ কারাগার ছাড়া ফুটবল আয়োজন অন্যত্র করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমরা এখানে এ আয়োজনটি নিয়মিত করতে চাই। এটিকে প্রকৃতপক্ষেই শোধরাগার করে গড়ে তুলতে চাই।’

কারা সূত্র জানায়, গত শনিবার উদ্বোধনী ম্যাচে কর্ণফুলী ও মধুমতি দলের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাটি দুই দুই গোলে ড্র হয়েছে। আজ সোমবার আরেকটি খেলা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ফাইনাল খেলার আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছে কারা কর্তৃপক্ষ।  

এক কারা কর্মকর্তা জানান, কেরানীগঞ্জের কারাগারটি অনেক বড়। এর ভেতরে দুটি মাঠ রয়েছে। যেটির একটি ফুটবল অন্যটিতে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়। সকাল ৭টার দিকে বন্দিদের লকআপ খুলে দেওয়া হয়। বিকেল ৪টার দিকে লকআপ করা হয়। টুর্নামেন্টে খেলাগুলো দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয়। ৪টার দিকে শেষ হতেই সব বন্দি যাঁর যাঁর ওয়ার্ডে চলে যান।

এখানে সুবেদার পর্যায়ের এক কর্মকর্তা রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রেফারি যে সিদ্ধান্ত দেন তা মাথা পেতে মেনে নেন বন্দি এই ফুটবল খেলোয়াড়রা। যাঁরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হবেন তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।

জানা যায়, টুর্নামেন্টে দুই দিন পর পর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মাঝের এক দিন সকালে এক দল ও বিকেলে আরেক দল অনুশীলন করার সুযোগ পাবে। বন্দিরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়েই মাসখানেক আগে দল গঠন করেছেন। খেলোয়াড়দের নাম পাওয়ার পর তাঁদের নামে জার্সিও বানানো হয়েছে। ম্যাচ চলার সময় ঊর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তারাও দর্শক হিসেবে থাকেন বলে জানা গেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা