kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন

শীর্ষ পদে আসতে পারে নতুন মুখ

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শীর্ষ পদে আসতে পারে নতুন মুখ

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে নানা মেরুকরণ চলছে। বিশেষ করে সভাপতি-সম্পাদক পদের জন্য আগ্রহী প্রার্থীরা নিজেদের বলয়ের নেতাদের পাশে পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কেউ ছুটছেন ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে। তবে প্রায় পাঁচ বছরের তিক্ততা ভুলতে এবার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে বলেও মনে করছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এ ক্ষেত্রে এবার জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান দুটি পদে (সভাপতি-সম্পাদক) নতুন মুখ আসতে পারে—এমনটিও মনে করছেন কেউ কেউ। আগামী ৪ ডিসেম্বর এ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সংগঠনটির অন্য পদধারী নেতা, যাঁরা বিতর্কে জড়িয়েছেন তাঁদের নিয়েও ভাবা হচ্ছে। এসব নেতার সম্পর্কেও এরই মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কেন্দ্রে একাধিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আবার দলে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও আলাদা একটি তালিকা করা হয়েছে। ফলে আগামী সম্মেলন ঘিরে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগে এবার ব্যাপক পরিবর্তন আসছে বলেও মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সব শেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর। ওই সম্মেলনে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে চলে যান কেন্দ্রীয় নেতারা। এর প্রায় এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কাউন্সিল হওয়ার পরপরই জেলা সভাপতি ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ নিজেদের বলয়ের লোকজনকে কমিটিতে নিতে তোড়জোড় শুরু করেন। এ নিয়েই মূলত শুরু হয় দুজনের রশি টানাটানি। পরে সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া ছাড়াও দুজন কেন্দ্রেও

সমানে নালিশ করতে থাকেন। ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগের পাহাড় জমা হতে থাকে কেন্দ্রে। এ অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধিসভায় জেলা কমিটি থেকে সভাপতি-সম্পাদকসহ কাউকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি। শেষে গত ৮ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে রাজশাহী জেলা কমিটির সম্মেলনের জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়। সম্মেলন কমিটির সমন্বয়ক করা হয় মহানগর সভাপতি ও রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে। ওই সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদককে নিজেদের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর দুজনই ক্ষমা চান। কিন্তু পরে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ফারুক চৌধুরী ও আসাদকে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে বুক মেলানোর আহ্বান জানান। এ সময় ফারুক চৌধুরী হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে আসাদের সঙ্গে বুক না মিলিয়ে তিনি বলেন, ‘আসাদ যে আমাকে রাজাকারপুত্র বলে অভিহিত করেছেন, সেটি প্রমাণ করতে হবে তাঁকে। এটি না করতে পারলে আমি তাঁর সঙ্গে বুক মেলাতে পারি না।’ এদিকে ফারুক চৌধুরীর এই হাতজোড় করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ছবিটিও ভাইরাল করেন আসাদপন্থী নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই অবস্থায় আগামী সম্মেলনে সভাপতি-সম্পাদক পদে এবার নতুন মুখ আসতে পারে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে জেলা সভাপতি পদে কাকে আনা হবে এ নিয়েই সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘোষণা অনুযায়ী এবার ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব তৈরি করা হবে। সেই ঘোষণা ঠিক থাকলে এবার সভাপতি-সম্পাদক দুটি পদেই পরিবর্তন আসছে—এমনটিও ধরে নেওয়া হচ্ছে। 

একাধিক সূত্র জানায়, এবার রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থীদের তালিকায় বর্তমান সভাপতি ও তানোর-গোদাগাড়ী আসনের এমপি ফারুক চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নূরুল ইসলাম ঠাণ্ডু ও বর্তমান জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নাম শোনা যাচ্ছে।

রাজশাহীর একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই চার নেতার মধ্যে সবচেয়ে ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব হলেন শাহরিয়ার আলম। তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল একটি জায়গায় থেকে তিনি রাজশাহী আওয়ামী লীগের জন্য কতটা সময় দিতে পারবেন, তা নিয়েও সংশয়। এ কারণে শেষ পর্যন্ত সভাপতি পদে আবারও মোড় ঘুরতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে অপর কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাজশাহীতে দলের মধ্যকার বিভেদ তৈরির জন্য বর্তমান সভাপতি ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদই দায়ী। এই অবস্থায় দুজনের মধ্যকার কাউকে আবারও সভাপতি করা হলে দ্বন্দ্ব অনেকটা থেকেই যাবে।’

তবে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও সভাপতি পদ নিয়ে জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দলের প্রয়োজনে যেকোনো কাজে আমাকে নিয়োজিত করলে সেটি সর্বাত্মকভাবেই পালন করার চেষ্টা করি এবং আগামীতেও করব। আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত আছি।’

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। এখানে দল যা চাইবে সেটিই মাথা পেতে নেব।’

অন্যদিকে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘এবার আমি সভাপতি পদে প্রার্থী হব। দল চাইলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আরো নিজেকে নিয়োজিত করব। তবে এবার আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হব না।’

এদিকে জেলার সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন—রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা, বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু, বাগমারার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদসহ আরো কয়েকজন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা