kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

সবিশেষ

‘ধ্বংস করে’ শিল্প সৃষ্টি করেন তিনি!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ধ্বংস করে’ শিল্প সৃষ্টি করেন তিনি!

নরওয়ের শিল্পী ডিনো টমিক আক্ষরিক অর্থেই বারুদ দিয়ে নিজের শিল্পকর্মে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন ধরে গেলেই ক্যানভাস জ্বলতে থাকে ও আসল সৃষ্টি বেরিয়ে আসে। তিনি এমন অনেক অপ্রচলিত পদ্ধতি কাজে লাগান।

বারুদ নিয়ে তাঁর অন্যতম প্রধান পরীক্ষার নমুনা একটি অফিস ভবনে শোভা পাচ্ছে। তাতে শিল্পীর জন্মের শহর নুটোডেন ফুটে উঠেছে। তিন কিলোগ্রাম বারুদ নিয়ে সেই সৃষ্টি সম্ভব করতে এক সপ্তাহ সময় লেগেছে। ডিনো বলেন, ‘অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণা কাজে লাগানো হয়। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা একেবারে অপ্রয়োজনীয় ও ছোট এসব কণা। কিন্তু তাতে আগুন ধরিয়ে দিলে তার শিখা ও উত্তাপ ঘর আলোকিত করে। সব সময় বেশ মজা হয়।’

ডিনো নেল ক্লিপারের সাহায্যে ছোট্ট কণাগুলো ক্যানভাসজুড়ে ছড়িয়ে দেন। ঘরের পরিবেশ কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য বাতাসও সব কিছু পণ্ড করে দিতে পারে। বাতাসে খুব

বেশি আর্দ্রতা থাকলে চলবে না, কারণ সে ক্ষেত্রে বারুদ জ্বলে উঠবে না। এমনকি আগুন জ্বালানোর জন্য কাঠের টুকরোর বিন্যাসও বড় পার্থক্য সৃষ্টি  করতে পারে। ডিনো টমিক জানান, কণাগুলোকেও পরস্পরের খুব কাছে রাখতে হয়, যাতে আগুন ধরালে দানাগুলো একে অপরকে জ্বালিয়ে দিতে পারে। তখন ক্যানভাসজুড়ে আগুনের এক শৃঙ্খল সৃষ্টি হয়। কণাগুলো ক্যানভাসের মধ্যে পুড়ে গিয়ে মূল চিত্রকলা ফুটিয়ে তোলে।’

সম্প্রতি ডিনো টমিক আরো কম বিস্ফোরক ভিন্ন এক উপাদান খুঁজে পেয়েছেন। আর সেটা হলো ধুলা। এভাবে তিনি নোংরা গাড়ির কাচকে বিখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রকর সালভাদোর দালির প্রতিকৃতিতে রূপান্তরিত করেছেন।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির দেয়ালচিত্র ‘লাস্ট সাপার’ও তিনি এভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই কাজের জন্য পুরো এক দিন ধরে সম্পূর্ণ একাগ্রতার প্রয়োজন পড়েছিল। ধূলিকণা বারুদের তুলনায় অনেক সূক্ষ্ম ও হালকা। ডিনো মনে করিয়ে দেন, ‘একটা ছোট ভুল করলেই ধুলা ঝরে পড়বে। একটু বাতাস বইলেই সব উড়ে যাবে। বৃষ্টি হলে ধুইয়ে যাবে। গাড়ির ওপর পড়া ধুলা নিয়ে কাজ। হাঁচি এলে, জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিলেই ধুলা উড়ে যাবে। তাই অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়।’ নিজের শহরে শিল্প সৃষ্টির জন্য তিনি আরো একটি পথ খুঁজে পেয়েছেন। পানিতে ক্ষতি হয় না এমন রং ব্যবহার করে তিনি ফুটপাতে বিটলসের মতো অনেক ছবি সৃষ্টি করেছেন। বেলজিয়ামের কমিক চরিত্র লাকি লিউকও সামান্য পানির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেই চিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে ডিনো টমিক বলেন, ‘এই অংশটিতে কোনো পানি নিরোধক রং ব্যবহার করা হয়নি, তাই একটু অন্ধকার মনে হয়। সাদা অংশগুলোতে পানি নিরোধক রং রয়েছে, তাই হালকা। বৃষ্টির সময় অথবা পানি ঢাললে এভাবে ছবি সৃষ্টি করা সম্ভব।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা