kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

প্রধান দুই দল সদরে সরব উপজেলায় স্থবিরতা

মাঠে সক্রিয় জাপা, জাসদ এবং বাম দলগুলোও

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ    

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রধান দুই দল সদরে সরব উপজেলায় স্থবিরতা

প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ময়মনসিংহের রাজনৈতিক অঙ্গনে বরাবরই সক্রিয়। বিশেষ করে জেলা সদরে দুই দলই সরব। সে তুলনায় উপজেলা পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা কম। বেগম রওশন এরশাদের কারণে জেলায় বিশেষ করে সদরে জাতীয় পার্টির কর্মকাণ্ড আছে। এর বাইরে জাসদ-সিপিবিসহ বাম দলগুলো স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা এলাকায় এলে উপজেলা পর্যায়ে দলটির নেতাকর্মীরা ক্ষণিকের জন্য সরব হন। নয়তো সবাই চলেন নিজ নিজ পথে। জেলা আওয়ামী লীগে আপাতত বিভক্তির প্রকাশ নেই। তবে উপজেলা পর্যায়ে বিভক্তি চোখে পড়ে।

অন্যদিকে জেলা সদরে বিএনপি আগের মতোই শক্তিশালী। কিন্তু প্রভাবশালী নেতাদের অনুপস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। নেতাদের অনেকে জেলা সদরে, আবার কেউ কেউ অবস্থান করেন ঢাকায়। এলাকার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ খুবই কম। মামলার কারণেও অনেক উপজেলায় দলীয় কর্মকাণ্ডে রয়েছে স্থবিরতা।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ পথ চলছে নতুন নেতৃত্বে। নবগঠিত জেলা কমিটিতে আছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হলেও তা অনেকটাই কেটে গেছে। সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল হক খোকা স্বনামধন্য আইনজীবী হিসেবে ময়মনসিংহের সব মহলে পরিচিত। সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। কমিটির অনেকেই সাংগঠনিকভাবে দক্ষ। প্রকাশ্যে তেমন বিরোধও চোখে পড়ে না।

তবে উপজেলা পর্যায়ে দল পুরোপুরি গোছানো নয়। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়া, নেতাদের মাঝে দূরত্ব, ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব, এমপিনির্ভরতার মতো কারণে অনেক উপজেলায়ই দল সুসংহত নয়।

উপজেলাগুলোতে আওয়ামী লীগে অনৈক্য স্পষ্ট হয় বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। বিস্ময়করভাবে জেলার বেশির ভাগ আসনেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হন। কোথাও কোথাও ভুল প্রার্থী নির্বাচন, আবার কোথাও এমপির প্রতি ক্ষোভ থেকে দলীয় নেতাকর্মীরাও বিদ্রোহী প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে পড়েন।

ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগ বহুধাবিভক্ত। দলীয় এমপির বিরুদ্ধে রয়েছেন বিপুলসংখ্যক প্রভাবশালী নেতাকর্মী। এ ছাড়া নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ ও ধোবাউড়া উপজেলায় দলীয় বিরোধ স্পষ্ট। চাপা বিরোধ আছে ভালুকায়। তবে কিছু উপজেলায় সম্প্রতি সম্মেলন হচ্ছে। অন্য কয়েকটিতে সম্মেলনের প্রস্তুতি আছে। এ নিয়ে সেসব উপজেলায় সংগঠনে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম বলেন, জেলা সদরের কর্মসূচিগুলো স্বাভাবিক কারণেই সবার নজরে পড়ে। তবে উপজেলায়ও কর্মসূচি পালিত হয়। বিশেষ করে সম্মেলন ঘিরে বেশির ভাগ উপজেলায়ই এখন সংগঠন চাঙ্গা।

বিএনপিতে সেই আওয়ামী লীগের চিত্র। দলটি জেলা সদরে ব্যাপকভাবে সক্রিয় থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে তা নেই। জেলা (দক্ষিণ) কমিটি সদরে পুলিশি বাধা, মামলা, গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে প্রতিটি কর্মসূচি সফল করতে প্রাণান্ত চেষ্টা করে। প্রতিটি কর্মসূচিতেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি থাকে। এই জেলার দায়িত্বে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) এমরান সালেহ প্রিন্স। সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য এই নেতা ময়মনসিংহ বিএনপিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটিতে আপাতত কোনো বিরোধ নেই। তবে অঙ্গসংগঠনগুলোতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি চোখে পড়ে।

ওদিকে জেলা সদরের বিপরীত চিত্র উপজেলা পর্যায়ে। প্রায় প্রতিটি উপজেলায়ই বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে স্থবির ভাব। মামলা-হামলায় নেতাকর্মীরা পর্যুদস্ত। কোথাও কোথাও রয়েছে যোগ্য নেতার অভাব। বিগত সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপি থেকে এমপি পদপ্রার্থীরা অনেকেই স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের খোঁজখবর নেন না। অনেকে ব্যস্ত নিজ ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে।

জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, দু-একটি ছাড়া বেশির ভাগ উপজেলায়ই দলের কর্মকাণ্ড স্থবির। তবে জেলায় সব অঙ্গসংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি দলীয় কর্মসূচি সফলভাবে পালন করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহের মেয়ে বেগম রওশন এরশাদ সদর আসনের বর্তমান এমপি। তাঁকে ঘিরে জেলা শহরে জাতীয় পার্টিরও কর্মকাণ্ড আছে। তবে নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব নিয়ে মতবিরোধও আছে। জাসদের (ইনু) বিশেষত ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ব্যাপক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আছে। এখানে দলের হাল সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টুর হাতে। জেলা সদরেও দলের প্রভাবশালী এবং পরিচিত নেতারা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন।

জেলায় বাম দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম আছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। একজন স্বনামধন্য আইনজীবীর নেতৃত্বে জেলায় গণফোরামের কমিটি থাকলেও সাংগঠনিক তৎপরতা কম। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মী থাকলেও সংগঠনটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই সেভাবে চোখে পড়ে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা