kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ফরিদপুরের দুই উপজেলায় আ. লীগের সম্মেলন স্থগিত

সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ পুলিশের গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ পুলিশের গুলি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন স্থগিত ঘোষণার জেরে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বেশকিছু ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হন। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সালথা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সম্মেলন স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হলে বিকেলে গট্টির রসুলপুর গ্রাম থেকে কর্তি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতব্বরের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিল সালথা বাজারের কাছে কাউলিকান্দা স্কুল মাঠে যাওয়ার পর সেখানে প্রতিবাদসভা হয়। সভায় ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর এপিএস মো. সফিউদ্দিন ছিলেন। সভা শেষে প্রতিবাদকারীরা মিছিল নিয়ে সালথা বাজার এলাকার দিকে এগোতে থাকে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মিছিল সালথা বাজার এলাকা থেকে এসে ওই মিছিলের সঙ্গে যুক্ত হয়। মিছিলের মধ্যে গুজব রটে, সাব্বির চৌধুরীর সমর্থকরা সাজেদা চৌধুরীর ছোট ছেলে শাহদাব আকবর ওরফে লাবু চৌধুরী সম্পর্কে কটূক্তি করেছে। এতে সেখানে দুটি পক্ষ তৈরি হয় এবং পক্ষ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ সালথা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সালথা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, সালথা ও আশপাশের বিভিন্ন থানার পুলিশ, ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের রিজার্ভ ফোর্স, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দুই উপজেলায় সম্মেলন স্থগিত

গতকাল দুপুরে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহাদাব আকবর ওরফে লাবু চৌধুরী। ফেসবুকে শাহাদাবের আইডি ‘লাবু চৌধুরী’তে ‘বিশেষ সংবাদ’ শিরোনামে ঘোষণাটি প্রচার করা হয়।

ঘোষণায় লাবু চৌধুরী লিখেন, ‘কিছু সময় আগে ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও ১৬ নভেম্বর নগরকান্দা সালথা ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের বিশেষ অতিথি মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আমাকে ফোন করে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানান। তিনি ১৯ নভেম্বর চিকিত্সার জন্য বিদেশে যাবেন। তিনি দেশে ফেরার পর নতুন করে সম্মেলনের তারিখ দেবেন।’ প্রসঙ্গত, ৮ ও ৯ নভেম্বর যথাক্রমে সালথা ও নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভা করে ১৬ নভেম্বর এই দুই উপজেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল।

ফেসবুকে ঘোষণায় আরো বলা হয়, ‘আপনারা লক্ষ করেছেন যে একটি কুচক্রি মহল (অনুপ্রবেশকারী) বারবার আপনাদের প্রিয় নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা এ সম্মেলন ঘিরেও নানা অভিসন্ধিমূলক কুত্সা রটনা করেছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করে নগরকান্দার মাটি থেকে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্মূল করব।’

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ঘোষণাটির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিধিবহির্ভূত সম্মেলন বন্ধ করায় আমি খুশি। শাহদাব আকবর দলে অনুপ্রবেশকারীদের প্রতিহত ও নির্মূল করার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তার সঙ্গে আমি একমত।’

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর এপিএস মো. সফিউদ্দিন বলেন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অসুস্থ থাকায় সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা