kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ওবায়দুল কাদের বললেন

এখনই নেতৃত্বে আসতে চান না জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এখনই নেতৃত্বে আসতে চান না জয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসা না আসা প্রসঙ্গে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এখানে জয়ের ইচ্ছার ব্যাপারও আছে এবং নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) কোনো কিছু বললে তিনি বলেন, জয় তো আসতে চায় না। এখনো তাঁর আসার আগ্রহ নেই।’ তিনি গতকাল দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের রাজনীতিতে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ বিষয়টা আমাদের পার্টির সভাপতি, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বিষয়। জয়ের নিজেরও ইচ্ছার ব্যাপার। আমি বারবার নেত্রীকে বলে আসছি জয়কে পরবর্তীকালের জন্য গ্রুমিং করার বিষয়টা... জয় যেভাবে আছেন সেভাবেই তিনি আপাতত থাকতে চান। পীরগঞ্জে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য অনেক দাবি ছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি। কাজেই জয়ের নিজের ইচ্ছারও এখানে ব্যাপার আছে। জয় যখন বাংলাদেশে আসবেন, আপনারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।’

শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ অপরিহার্য নয়

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদক পদেও নেত্রী যা ইচ্ছা করবেন, সেটাই হবে। তিনি পরিবর্তন চাইলে পরিবর্তন হবে। আমাদের এখানে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। হয়তো কারো কারো ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে। সাধারণ সম্পাদক পদেও প্রার্থী থাকতে পারে। সেখানে কোনো অসুবিধা নেই। আমি যদি মনে করি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ হতে পারবে না এটা তো ঠিক না। এটা ডিসাইড করবেন নেত্রী। তবে প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবার আছে।’

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীতে নতুন মুখের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পুরনো মুখ, নতুন মুখ এটা ডিসাইড করার মালিক আমাদের সভাপতি, আমাদের গঠনতন্ত্রে তাঁকে এই ক্ষমতা দেওয়া আছে। আমাদের নেত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, তিনি নির্ধারণ করবেন, কে আসবে দলে। আমাদের দলে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ অপরিহার্য ব্যক্তি নয়।’

এমপিরা উপজেলায় পদ রাখতে পারবেন না

আওয়ামী লীগের কমিটির পরিধি বাড়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটির কলেবর এখন পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তাভাবনা নেই। কমিটি ৮১ জনেরই থাকবে। বর্তমান কমিটিতেই একটি সদস্যপদ ও সভাপতিমণ্ডলীর দুটি সদস্যের পদ খালি আছে। সেগুলো এই মুহূর্তে পূরণ হবে না। সম্মেলনের মধ্য দিয়েই আমরা পুরো কমিটি করে ফেলব, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’

তৃণমূলে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন কোনো এমপি দলের উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী হতে পারবেন না। এটা আমরা নিরুৎসাহ করছি। উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের আমরা অনুরোধ করছি তাঁরা যেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে না এসে ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের একটা সুযোগ করে দেন। কারণ তাঁদেরও অধিকার আছে। তাঁরা এমপিও হতে পারেননি, দলে নেতৃত্বও পাবেন না, এটা তো হয় না।’

বিএনপিকে নিমন্ত্রণ করা হবে

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বর্তমান মঞ্চে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নৌকার আদলে মঞ্চ হচ্ছে। সম্মেলন জাঁকজমকপূর্ণ হবে না। তবে মুজিববর্ষ জাঁকজমকপূর্ণ হবে। বর্ণিল না হলেও সমাগম বেশি হবে। সম্মেলনে দেশের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের আসন্ন সম্মেলনে বিএনপিকে নিমন্ত্রণ করা হবে। নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি কূটনীতিকদেরও দাওয়াত দেওয়া হবে। যেহেতু মুজিববর্ষে বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, তাই এবারের সম্মেলনে কোনো বিদেশি মেহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।’

পেঁয়াজ সংকট সাময়িক

পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই তুরস্ক, মিসর থেকে পেঁয়াজ আসবে, এ সংকট সাময়িক।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা আন্দোলনের মাধ্যমেই তাঁকে মুক্ত করুক। এটা দেখার অপেক্ষায় আছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা