kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

সৌদি আরবে নির্যাতন

সেই সুমি ফিরেছেন দেশে

২২ হাজার রিয়ালে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই সুমি ফিরেছেন দেশে

গতকাল ঢাকায় নেমেই পঞ্চগড়ে মা-বাবার কাছে চলে আসেন সুমি। ছবি : কালের কণ্ঠ

সৌদি আরবের রিয়াদে প্রথম কর্মস্থলে ‘মালিক’ নানাভাবে তাঁর ওপর নির্যাতন চালাত, এমনকি হাতের তালুতে গরম তেল ঢেলে দিত। চিত্কার করলে ঘরের ভেতর আটকে রাখত। একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় তাঁকে কোনো কিছু না জানিয়েই নাজরানের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ২২ হাজার রিয়ালে বিক্রি করে দেয় সে। নতুন ‘মালিক’ও একইভাবে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে।

সৌদি আরবে নিয়োগকর্তার ওই ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ ভিডিওতে তুলে ধরে বিশ্বব্যাপী সংবাদ শিরোনাম হওয়া বাংলাদেশের সেই কিশোরী সুমি আক্তার ফিরে এসেছেন মা-বাবার কোলে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সুমিকে তাঁর মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তিনি সৌদি আরবে সাড়ে পাঁচ মাস ধরে তাঁর ওপর চলা অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে।

এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে গতকাল সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে সুমি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন। সে সময় ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের পরিচালক ও উপসচিব জহিরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনে সুমিকে সহযোগিতা করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুমিকে ভিআইপি টার্মিনাল দিয়ে বের করে নিয়ে আসা হয়। এরপর বোর্ডের নিজস্ব গাড়িতে সুমিকে বাড়ির উদ্দেশে পঞ্চগড়ে পাঠানো হয়। স্বামী নুরুল ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকলেও তাঁর কাছে সুমিকে হস্তান্তর করা হয়নি। এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-২-এ উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরাও সুমির সাক্ষাত্ পাননি।

মা-বাবার কাছে হস্তান্তরের সময় সুমি জানান, উদ্ধার হওয়ার আগে ১৫ দিন তাঁকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয়নি। তাঁর মোবাইল ফোনটিও তারা নিয়ে নেয়। একসময় খুব কান্নাকাটি করে স্বামীর সঙ্গে একটু কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনটি চান সুমি। বাড়ির মালিক তাঁকে মোবাইল ফোন দিলে বাথরুমে গিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিওতে তিনি নিজের ওপর নির্যাতনের সব কথা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

সুমি জানান, ভিডিওটি তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে ওই ভিডিও তাঁর স্বামী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সুমিকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সৌদির জেদ্দা কনস্যুলেটের কর্মকর্তা আব্দুল হক অসামান্য সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তিনি।

সুমি বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর দুই বছর আগে ঢাকায় গার্মেন্টে চাকরি নিই। সেখানেই আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়। মা-বাবার নিষেধ অমান্য করেই স্বামীর কথামতো সৌদিতে যাই। ট্রাভেল এজেন্সি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’ ভালো কাজের কথা বলে গৃহকর্মীর ভিসায় গত ৩০ মে আমাকে সেখানে পাঠিয়ে দেয়।’

সুমি বলেন, ‘আমি যেভাবে নির্যাতিত হয়েছি, তা সবাই ভিডিওর মাধ্যমে জেনেছেন। আর নতুন করে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা না পেলে উদ্ধার হতে পারতাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও আমাকে উদ্ধারের জন্য যাঁরা সহযোগিতা করেছেন গণমাধ্যমকর্মীসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

সুমির মা মল্লিকা বেগম বলেন, ‘মেয়েকে নির্যাতন থেকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মেয়েকে ফিরে পেয়েছি, আর কিছু চাই না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা