kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

আয়কর মেলা

নারী করদাতা বেড়েছে

ছুটির দিনে চাকরিজীবীর ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারী করদাতা বেড়েছে

আয়কর মেলা যেন উৎসবের রূপ পেয়েছে। গতকাল রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে বড় বড় তাঁবু টানানো রয়েছে। এসব তাঁবুর ভিতরে এবং ক্লাবের বিভিন্ন ভবনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাজস্ব বিষয়ক সেবা দিচ্ছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। রাজস্ব বিষয়ক বিভিন্ন শ্লোগান লেখা ব্যানার-প্লাকার্ডে মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে। করদাতারা কেউ ইটিআইএন নিয়েছেন, কেউ রিটার্ন দাখিল করেছেন। মেলায় স্থাপিত অস্থায়ী ব্যাংক বুথে গিয়ে অনেকে কর পরিশোধ করেছেন। সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ করদাতা। চারদিকে যেন উৎসবের আমেজ। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলায় চাকরিজীবী করদাতা বেশি ছিল। এছাড়া নারী করদাতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় দিন আয়কর সংগ্রহ হয়েছে ৪৭৯ কোটি ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৭ টাকা।

গতকাল রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত আয়কর মেলাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। গত ১৪ নভেম্বর শুরু হওয়া আয়কর মেলা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রথম দিনের তুলনায় গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ভীড় ছিল কয়েকগুণ বেশি। মেলায় আগতদের মধ্যে চাকরিজীবীর সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে, এনবিআর সংশ্লিষ্টরা সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে করদাতাদের বাড়তি চাপ সামলাতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন।  সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও আয়কর মেলার দায়িত্বে থাকা রাজস্ব কর্মকর্তারা মেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্দিষ্ট বুথে হাজির ছিলেন। এক ঘণ্টার নামাযের বিরতি ছাড়া টানা সেবা দেন তারা। সাপ্তাহিক ছুটিতে কর দাতাদের অনেকে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিতজনদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় আসেন। অনেকে রিটার্ন দাখিলের ফাঁকে মেলার সুন্দর পরিবেশে রাজস্ব কর্মকর্তাদের কাছে রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জেনে নেন। ঢাকার মিরপুর ১০ এর বাসিন্দা চাকরিজীবী ইলিয়াস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ছুটির দিন দেখে রিটার্ন জমা দিতে  এসেছি। মেলায় সুন্দর পরিবেশ বলেই আগ্রহ নিয়ে এসেছি।

দ্বিতীয় দিনে মেলা পরিদর্শনে আসেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট ফার্মগুলো যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব না দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যাতে আইগত ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে লক্ষ্যে আইন ও বিধিমালা তৈরি করছে এনবিআর। 

তিনি বলেন, একটা সমস্যার কথা সবাই বলে- যার যতো আয়কর দেওয়ার কথা, আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তা দেয় না। আমরা এরইমধ্যে একটা ব্যবস্থা নিয়েছি। অ্যাকাউন্টিং যে ফার্মগুলো আমাদের দেশে আছে, তাদের সঙ্গে মিটিং করে একটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

দেশে নারী করদাতাদের সংখ্যা বাড়ছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দিন দিন আয়কর মেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রচুর মানুষ কর দিচ্ছেন। এবার নারী করদাতারাও আসছে। গতকাল যারা কর দিয়েছেন এর মধ্যে ৩০ শতাংশই নারী। মেলা ঘুরে দেখতে পেয়েছি নারীরা খুব আগ্রহ সহকারে বসে বসে নিজেরাই রিটার্ন ফরম পূরণ করছেন। গতবছরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁরা কর দিয়েছেন। প্রতিবছরই আয়কর মেলার পরিধি বাড়ছে। আয়কর মেলা জনপ্রিয় হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আয়কর দিতে হবে। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যাদের সামর্থ্য আছে তাঁরা যেন আমাদের সেবা গ্রহণ করে এবং উন্নয়নে শামিল হয়। মেলায় আমাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বচ্ছভাবে সেবা দিচ্ছে।

এবারের আয়কর মেলায় করদাতাদের ১০ ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে। এগুলি হল- আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা, রিটার্ন জমার জন্য কর অঞ্চলভিত্তিক আলাদা বুথ, নতুন ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ইটিআইএন) দেয়া, পুরোনো টিআইএনের বদলে নতুন ইটিআইএন, কর পরিশোধে ই-পেমেন্টের সুযোগ, মুক্তিযোদ্ধা-নারী-প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতার জন্য আলাদা বুথ, সোনালী-জনতা-বেসিক ব্যাংকের বুথের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (ইআরডি) বিভিন্ন সংস্থার তথ্য জানার জন্য আলাদা বুথ, মেলা প্রাঙ্গণে আয়কর রিটার্ন এবং ইটিআইএন আবেদন ফরম ও চালান ফরম সরবরাহ, করদাতার জন্য সহায়তা কেন্দ্র এবং ফটোকপি সুবিধা। মেলার বিশেষ আকর্ষণ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে সম্মানিত করদাতাগণ রকেট, নগদ, বিকাশ ও প্রযোজ্য শিওর ক্যাশের  মাধ্যমে আয়কর জমা দিতে পারছেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা