kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই আলোর মুখ দেখেনি

জেলাবাসীর প্রধান দাবি নদীভাঙন রোধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়নি

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই আলোর মুখ দেখেনি

ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধির সুবাদে ঝালকাঠি জেলাকে একসময় দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। ভারতের সঙ্গে এখানকার ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। সেই দিন আর নেই। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিবিজড়িত ধানসিঁড়ি নদীটি শীর্ণপ্রায়। বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় সামান্য জোয়ারেই তলিয়ে যাচ্ছে ফসলের ক্ষেত ও বসতঘর। সাগরে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নদীতীরের মানুষকে ছুটতে হয় সাইক্লোন সেন্টারে। নদীতীরের দুটি আশ্রয়কেন্দ্রও ভাঙনের মুখে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় নির্বাচনের সময় নদীভাঙন রোধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ ছিল প্রার্থীদের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

উন্নয়নে ঝালকাঠি জেলাকে বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু নির্বাচনের পর সেসবের সামান্যই বাস্তবায়ন হয়েছে। জেলার সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্রও চোখে পড়ার মতো নয়। কর্মসংস্থান হয়নি বিশাল জনগোষ্ঠীর। গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা। প্রসার ঘটেনি ব্যবসা-বাণিজ্যের। রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ট নির্মাণেও ধীরগতি। গ্রামীণ জনপদ এখনো বিদ্যুত্বঞ্চিত। তবে অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হয়েছে।

বিষখালী নদী ঘেঁষা রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-১ আসন। এখানকার নদীতীরের বাসিন্দাদের জীবিকা মাছ ধরা ও কৃষি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানি প্রায় নিত্য বছরের চিত্র। বেকারত্ব বড় এক সমস্যা। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দুটি উপজেলার কয়েকটি গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদীর তীরজুড়ে কৃষকদের উদ্যোগে গড়া বেড়িবাঁধ। ধীরে ধীরে ভেঙে নদীতেই বিলীন হচ্ছে বাঁধটি।

বিগত সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ। উন্নয়ন হয়নি রাস্তাঘাটের, নির্মাণ হয়নি সেতু-কালভার্ট। দুটি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সর্বত্র এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের বজলুল হক হারুন নির্বাচনের আগে এসব সমস্যা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রাজাপুর অথবা কাঁঠালিয়ায় একটি স্টেডিয়াম ও একটি করে পার্ক, রাজাপুরের বাদুরতলা থেকে ঢাকার পথে লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা ও রাজাপুরকে পৌরসভা ঘোষণা, উন্নয়নকাজের টেন্ডারে স্বচ্ছতা আনা—এমন আরো অনেক প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর। বলতে গেলে সেসবের কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সড়ক-সেতু নির্মাণ, সংস্কারসহ অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হয়েছে।

বজলুল হক হারুন এমপি এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমুয়া ও পুটিয়াখালী সেতু, স্কুল-কলেজ সরকারীকরণ, হাসপাতাল ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছি। শিগগির রাজাপুরে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ হবে। সদরের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কাজও শুরু হয়েছে। আমি প্রয়োজনের চেয়েও রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় বেশি উন্নয়নকাজ করেছি।’

গাবখান চ্যানেল ও সুগন্ধা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ সংসদীয় আসন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু। টানা তিন মেয়াদে তিনি এই আসন থেকে এমপি হয়েছেন, ছিলেন শিল্পমন্ত্রীও। নির্বাচনের আগে শিল্প-কারখানা স্থাপন, নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সুগন্ধা নদীতে সেতু ও ইকো পার্ক নির্মাণসহ বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর। সেসবের বেশ কিছু এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বেকারত্ব দূর করতে নলছিটি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করা হলেও দুই বছর ধরে আবারও বেকার প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা। ভাঙা রাস্তা মেরামত হয়নি। ঘূর্ণিঝড় সিডরে ভেঙে যাওয়া কয়েকটি সেতু সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার এই তিন মেয়াদে অবকাঠামোগত দিক গিয়ে সদর ও নলছিটির বেশ কিছু উন্নয়ন হয়েছে। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন, নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, দপদপিয়া-মোল্লারহাট ও হদুয়া-নলছিটি সড়ক, ঝালকাঠি-নবগ্রাম-গাভারামচন্দ্রপুর-কীর্ত্তিপাশা-মানপাশা-বিনয়কাঠি সড়ক প্রশস্তকরণসহ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫০ শয্যার ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভবন নির্মাণ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর মহিউদ্দীন স্টেডিয়াম ও গৃহহীনদের আবাসন নির্মাণে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু এ ব্যাপারে বলেন, ‘ঝালকাঠির উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক কাজ করেছে। আরো কিছু মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামীণ জনপদে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের ছোঁয়া লেগেছে। আমরা গ্রামকে শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা