kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ঘুষ হুমকির ঝুঁকি সূচকে দ. এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

২০০টি দেশের মধ্যে ১৭৮

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘুষ হুমকির ঝুঁকি সূচকে দ. এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হলে ঘুষ একটি বড় হুমকি এবং এ কারণে নানা ঝুঁকি তৈরি করে। এই ঘুষ হুমকির ঝুঁকি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও এই দেশ উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তলানির দিকে, ১৭৮ নম্বর র্যাংক। গত এক বছরে বাংলাদেশে ঘুষের হুমকিবিষয়ক ঝুঁকি আরো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ঘুষবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্র্যাস-এর ঘুষ ঝুঁকি সূচকে (ট্র্যাস ব্রাইবারি রিস্ক ম্যাট্রিক্স) এ চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের এই খারাপ পরিস্থিতির জন্য ব্যবসাক্ষেত্রে সরকারের অতিরিক্ত মিথস্ক্রিয়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বোঝা হয়ে দাঁড়ানো, সরকারের স্বচ্ছতার অভাব এবং গণমাধ্যম নগণ্য স্বাধীনতা ও ঘুষের বিরোধিতায় সুধীসমাজের নজরদারির অক্ষমতা ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়েছে।

কানাডায় নিবন্ধন নেওয়া ঘুষবিরোধী সংস্থা ট্র্যাস বিশ্বব্যাপী ঘুষঝুঁকির সমাধানে তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি সলিউশন) কাজ করে থাকে, যার সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রে। পাঁচ শতাধিক বহুজাতিক সংস্থাসহ সারা বিশ্বে এর সদস্য ও সেবাগ্রহীতা (ক্লায়েন্ট) রয়েছে বলে ট্র্যাস ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে।

চার মানদণ্ডে সূচক তৈরি : সরকারের সঙ্গে ব্যাবসায়িক মিথস্ক্রিয়া, ঘুষবিরোধী বাধা ও ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকার ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে স্বচ্ছতা এবং সুধীসমাজের নজরদারির সক্ষমতা—এই চার মানদণ্ডের ভিত্তিতে সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। এই চারটি মানদণ্ড মিলিয়ে গড়ে ১০০ পয়েন্টের মধ্যে যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশে ঘুষের হুমকি তত কম। 

বাংলাদেশের পরিস্থিতি : সম্প্রতি প্রকাশিত এই সূচকের ২০১৯ সালের ঘুষের হুমকি বিষয়ক ঝুঁকির ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে এবার দুই পয়েন্ট বেড়ে ৭২ স্কোর পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে এবার বাংলাদেশ ১৭৮তম অবস্থানে আছে। এই রিস্ক স্কোর বলছে, বাংলাদেশে ঘুষ হুমকির ঝুঁকি বেড়েছে।

সূচকের প্রথম মানদণ্ড ‘সরকারের সঙ্গে ব্যাবসায়িক মিথস্ক্রিয়া’ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে খুবই খারাপ নম্বর ৮৬ পেয়েছে। সরকারের উঁচুমাত্রার মিথস্ক্রিয়া, ঘুষ সম্পর্কে খারাপ ধারণা ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক বোঝা (হাই রেগুলেটরি বারডেন) এ জন্য দায়ী।। দ্বিতীয়ত, ‘ঘুষবিরোধী বাধা ও আইনের প্রয়োগ’ মানদণ্ডে বাংলাদেশ কম নম্বর ৬৩ পেয়েছে। ঘুষ গ্রহণে বাধা দেওয়া ও স্বল্প পরিমাণে আইন প্রয়োগের অভাবের কারণে এত কম নম্বর পেয়েছে। তৃতীয়ত, ‘সরকার ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে স্বচ্ছতা’ বিষয়ক মানদণ্ডে বাংলাদেশ মাঝামাঝি নম্বর পেয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মাঝারি স্বচ্ছতা এবং আর্থিক ক্ষেত্রগুলোর নগণ্য স্বচ্ছতার কারণে বাংলাদেশ এর চেয়ে ভালো করতে পারেনি। চতুর্থ মানদণ্ড ‘সুধীসমাজের নজরদারির সক্ষমতা’ বিষয়ে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ কম নম্বর পেয়েছে। এর কারণ গণমাধ্যমের নগণ্য স্বাধীনতা ও সুধীসমাজের তৎপরতার সক্ষমতার অভাব।

সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো : এই সূচকে ৪১ নম্বর ঝুঁকি পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ভুটান। এ দেশের অবস্থান ৫২। এরপর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত (বৈশ্বিক র্যাংক ৭৮), তৃতীয় শ্রীলঙ্কা (বৈশ্বিক র্যাংক ১১১), চতুর্থ নেপাল (বৈশ্বিক র্যাংক ১১৬), পঞ্চম মালদ্বীপ (বৈশ্বিক র্যাংক ১২৪), ষষ্ঠ পাকিস্তান (বৈশ্বিক র্যাংক ১৫৩, সপ্তম আফগানিস্তান (বৈশ্বিক র্যাংক ১৬৮) এবং অষ্টম বাংলাদেশ (বৈশ্বিক র্যাংক ১৭৮)।

ভালো-মন্দ শীর্ষ পাঁচ : ঘুষের ঝুঁকির সূচকে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি দেশ হলো নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। আর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি দেশ হলো ভেনিজুয়েলা, ইয়েমেন, নর্থ কোরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ক্ষেত্রে ঘুষের ঝুঁকির বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলে আরো বেশি নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন মেটাতে ২০১৪ সালে প্রথম এই সূচক প্রকাশ করা হয়। কোনো বিশেষ দেশে কম্পানির কাছে ঘুষ চাওয়া হবে কি না বা ঘুষের সম্মুখীন হতে হবে কি না তার পরিমাপ করে এই সূচক। সূত্র : ট্র্যাস ইন্টারন্যাশনাল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা