kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

রাঙ্গার মন্তব্য নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার দাবি

বানরকে লাই দিলে মাথায় ওঠে : ফিরোজ রশীদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার দাবি

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ইস্যুতে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার কঠোর সমালোচনা করেছেন সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা। তাঁদের দাবি, রাঙ্গাকে অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ দাবি জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রবীণ সংসদ সদস্যরাও। উত্তপ্ত বিতর্ক চলার সময় অবশ্য মসিউর রহমান রাঙ্গা সংসদে ছিলেন না।

তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা ও অসন্তোষের মধ্যে জাতীয় পার্টির দুজন সিনিয়র সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, এটি একান্তই রাঙ্গার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এর দায় জাতীয় পার্টি নেবে না। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদও মহাসচিবের সমালোচনা করেন। যুবদল করে আসা মসিউর রহমান রাঙ্গা কিভাবে জাপা মহাসচিব হলেন সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তীব্র ক্ষোভ-বিতর্ক চলাকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে নিজ আসন থেকে উঠে গিয়ে অধিবেশনে থাকা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কিছু সময় কথা বলতে দেখা যায়। তবে জি এম কাদের অধিবেশনে এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত এই বিতর্কের সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগদলীয় সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে তুলাধোনো করেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নু।

আমির হোসেন আমু বলেন, নূর হোসেনকে যখন হত্যা করা হয় তখন দেশে ফেনসিডিল, ইয়াবা ছিল না। ভোট ডাকাতি, মিডিয়া ক্যুর কথা বলা হয়। এই ভোট ডাকাতি, মিডিয়া ক্যুর হোতা ছিলেন প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আজ সেটাকে ঢাকার জন্য রাঙ্গা এত বড় দুঃসাহস দেখাতে পারেন না। জাপা মহাসচিবকে তাঁর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, মসিউর রহমান রাঙ্গা এমন একটি বক্তব্য দিয়েছেন, যাতে বাংলার মানুষের হৃদয়ে আঘাত লেগেছে। রাঙ্গা ভুলে গেছেন যে এরশাদ সাহেব নূর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, সংসদে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এই বক্তব্যের জন্য তাঁকে ধিক্কার জানাই।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, মসিউর রহমান রাঙ্গা যে কথা বলেছেন তা কোনো সুস্থ মানুষ বলতে পারে না। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কথা বলার আগে তাঁর চিন্তা করা দরকার ছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পাকিস্তানি আর্মির সঙ্গে একত্র হয়ে পাকিস্তানের স্বার্থে কাজ করেছেন। রাঙ্গার এই বক্তব্য গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘যে নূর হোসেনকে সামনে রেখে আমরা আন্দোলন করেছি, তাঁকে কটাক্ষ করে রাঙ্গা সংসদকে অপমান করেছেন। তাঁকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।’

নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, মসিউর রহমান রাঙ্গা গণতন্ত্রের ধারাকে অপমান করেছেন। এই বক্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জাতীয় পার্টি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

তাহজীব আলম সিদ্দিকী বলেন, শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার অপমানজনক বক্তব্যের প্রতিকার চাই। তাঁর এ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ভবিষ্যতে এমন দম্ভোক্তি থেকে বিরত থাকবেন, সেই প্রতিশ্রুতিও তাঁকে দিতে হবে।

বানরকে লাই দিলে মাথায় ওঠে

জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বক্তব্য নিয়ে সংসদে কড়া সমালোচনা করেছেন একই দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। তিনি বলেন, ‘বানরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে। জাতীয় পার্টি নয়, রাঙ্গাকে এই লাই দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রতিমন্ত্রী করে। আমি যত দিন রাজনীতি করি তত দিন তার (রাঙ্গা) বয়সও না। সে এই ধৃষ্টতা দেখায় কিভাবে?’ তিনি আরো বলেন, মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য জাতীয় পার্টির নয়। এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত। এই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত।

এর আগে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, শহীদ নূর হোসেনের ব্যাপারে জাতীয় পার্টির কী দৃষ্টিভঙ্গি সেটা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নূর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন। তাঁর মা-বাবার কাছে এরশাদ সাহেব দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এটাই জাতীয় পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি। এর বাইরে কেউ কিছু বললে সেটা তাঁর নিজস্ব বক্তব্য। তবে দোষত্রুটি থাকলেও জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রের জন্য আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে, নির্বাচনে সহযোগিতা করেছে। এটা মনে রাখলে ভালো হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা