kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

কাঁদল মহিমা, কাঁদাল সোহা

বিশ্বজিত্ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া    

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাঁদল মহিমা, কাঁদাল সোহা

মাথায় ব্যান্ডেজ করা ছোট্ট মহিমা হাসপাতালে অঝোরে কান্না করতে করতে খুঁজছিল তার মা-বাবাকে। আদর করেও তাকে সামলানো যাচ্ছিল না। হাতে চিপস দিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। মা মারা গেছেন, সেটি বুঝে উঠার বয়স হয়নি তার। কয়েক ঘণ্টা পর ফুফুর কোল খুঁজে পেয়ে কিছুটা স্থির হয় ছোট্ট মহিমা। চাঁদপুর জেলার তিরাশী গ্রামের মঈন উদ্দিনের মেয়ে মহিমা। 

আরেক ছোট্ট শিশু সোহা মণি প্রবল কাঁদাল। হাসপাতালের মেঝেতে শুইয়ে রাখা তার নিথর দেহ দেখে সবার চোখে জল। ওর ওই নিথর দেহের ছবিটি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। অনেকে এ নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেয়। শেষে মামা এসে নিয়ে যান সোহার নিথর মৃতদেহ। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সোহেল মিয়ার শিশুকন্যা সোহা মণি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে সোমবার গভীর রাতে ভয়ংকর ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয় সোহা, আহত হয় মহিমা। দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মধ্যে চারজন শিশু। আহত শতাধিকের মধ্যেও শিশু রয়েছে চারজন। নিহত শিশুদের বাড়িতে চলছে মাতম। অন্যদিকে আহত শিশুর স্বজন হারানোর ঘটনাও মানুষের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে।       

নিহত অন্য তিন শিশু হলো হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বুল্লা গ্রামের ইয়াছির আরাফাত (১২), বানিয়াচংয়ের সোহেল মিয়ার মেয়ে আদিবা (২) এবং চাঁদপুর জেলার জাহাঙ্গীরের মেয়ে মরিয়ম বেগম (৪)। আহত অন্য তিন শিশু হলো নবীগঞ্জ উপজেলার আতিক মিয়ার মেয়ে আফসা (১৪), সিলেট জেলার আনোয়ার হোসেনের ছেলে রাহুল (১), একই জেলার বানিয়াচং উপজেলার মুসা মিয়ার মেয়ে মীম (৭)।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে যান পৌর এলাকার পাইকপাড়ার বাসিন্দা টুটুল পাল চৌধুরী। কথা হলে তিনি জানান, ওই সময় হাসপাতালের এক সেবিকার কোলে কান্না করছিল মহিমা। হঠাত্ সে বমি করতে শুরু করলে চিকিত্সাসেবা দেওয়া শুরু হয়।

মহিমা দাদি, চাচা ও মায়ের সঙ্গে সিলেটে যায়। মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে তারা সিলেট গিয়েছিল। ফেরার পথে পড়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। দুর্ঘটনায় দাদি আর চাচা আহত হলেও মারা যান মহিমার মা কাকলী বেগম। চাচাকে পাঠানো হয় কুমিল্লায় হাসপাতালে। দাদি চিকিত্সা নিচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে। এ অবস্থায় মহিমার কোনো স্বজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মাথায় ব্যান্ডেজ করা কান্নারত মহিমাকে দেখে অনেকে আবেগপ্রবণ হয়। পরে খবর পেয়ে মহিমার বাবা, ফুফুসহ অন্যরা আসেন।

এদিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়ি ফিরতে গিয়ে নিহত হয় সোহা মণি। হাসপাতালে পড়ে থাকা সোহার নিথর দেহের ছবি ফেসবুকে দেওয়া হলে খবর পেয়ে ছুটে আসেন সোহা মণির মামা জামাল উদ্দিন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, সোহার সঙ্গে থাকা তার বাবা, মা ও ভাই আহত হয়েছেন। সোহার বাবা সোহেল মিয়ার দুটি পা ভেঙে গেছে। সোহার মা-বাবাকে এখনো সোহার মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তাঁদের সিলেট মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা