kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল

কুষ্টিয়ায় যুবলীগ নেতাকে অস্ত্র-ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুষ্টিয়ায় যুবলীগ নেতাকে অস্ত্র-ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিমকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে। অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। চরমপন্থী নেতা লিপটন ও জেলা পরিষদের সদস্য মামুন অর রশিদ র‌্যাবকে দিয়ে আলিমকে ফাঁসিয়েছেন বলে আলিমের পরিবারের অভিযোগ। 

আলিম সদর উপজেলার ভাদালিয়ার স্বস্তিপুর গ্রামের মাদার বক্সের ছেলে ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। মামুনের বাড়ি একই এলাকায়। সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে আলিমের পরিবার ও এলাকাবাসী।

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে আব্দুল আলিম ভাদালিয়ার বাড়ি থেকে বের হন। পথে চৌড়হাস এলাকায় সোহাগ জুয়েলার্সের পাশে আলিম কারো জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন সেখানে একটি কালো গাড়ি নিয়ে যান জেলা পরিষদের সদস্য মামুন অর রশিদ। এরপর ভবনটির দারোয়ান, মামুন ও আলিম কথা বলছিলেন। মামুন কথা বলে ওপরে উঠে যাওয়ার পরই তিনজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি আলিমকে জাপটে ধরেন। চৌড়হাস মোড়ে ব্যবসায়ীদের স্থাপিত সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন আলিমকে ধরে একটি অস্ত্র বারবার তাঁর মাজায় গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আলিম টাইট প্যান্ট ও গেঞ্জি পরে থাকায় ও বাধা দেওয়ায় অস্ত্র গুঁজতে বেগ পেতে হয় তাঁদের। গুঁজে দেওয়ার সময় অস্ত্রটি মাটিতে পড়ে যায়। সেটি তুলে হাতে নেন একজন। পরে আলিমকে পিটিয়ে তাঁর কোমরে সেটি আবার গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাঁর চোখ বেঁধে ফেলার চেষ্টাও করা হয়। এরপর র‌্যাবের একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন। সেখান থেকে আলিমকে আটক করে র‌্যাব কুষ্টিয়া ক্যাম্পে নেওয়া হয়।

র‌্যাব কুষ্টিয়া ক্যাম্প থেকে একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে বলা হয়েছে, চৌড়হাস এলাকায় বৈঠক করার সময় অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ চরমপন্থী আব্দুল আলিমকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে অস্ত্র ও মাদক মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আলিমের ভাই অ্যাডভোকেট দলোয়ার হোসেন বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে আলিমকে অপদস্ত ও হয়রানি করতে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন মামুন। সাধারণ মানুষের সামনেই র‌্যাব সদস্যরা আলিমের কোমরে পিস্তল গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, মামুন নিজেই বিতর্কিত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের মামলা রয়েছে। সে র‌্যাবের কথিত সোর্স। তারা অস্ত্র কারবার ও সরবরাহ করে, নিরীহ লোকজনকে ফাঁসিয়ে দেয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে র‌্যাবের সদস্য ও মামুনের শাস্তি দাবি করছি।

আলিমের অসুস্থ স্ত্রী আঁখি খাতুন বলেন, ‘আমাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার পর কেউ তাকে (আলিম) ফোনে চৌড়হাস যেতে বলে। সেখানে যাওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একটি মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল। এরপর সাদা পোশাকে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে মারধর করে কোমরে পিস্তল গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করে র‌্যাব। দেশে কি কোনো বিচার নেই? চরমপন্থী লিটপন মামুনকে দিয়ে আমার স্বামীকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।’ তিনি অভিযুক্তদের শাস্তির পাশাপাশি আলিমের মুক্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) লে. এ এম এম এইচ ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্র ও গুলি দিয়ে ফাঁসানোর যে অভিযোগ সেটি সঠিক নয়। র‌্যাব কখনো এ ধরনের কাজ করে না।

আলিমকে ফাঁসানোর বিষয়টি জানাজানির পর র‌্যাব সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করে দিয়ে যায়। এ নিয়ে মুখ না খুলতেও হুমকি দেওয়া হয় আশপাশের লোকজনকে।

জেলা পরিষদের সদস্য মামুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি বুথে টাকা তুলতে যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে নেমে দেখি সেখানে আলিম দাঁড়িয়ে আছে। আশপাশে গোয়েন্দা সংস্থার লোক দেখে আমি দ্রুত চলে যাই। এরপর এসে দেখি আলিমকে অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।’

একই দিন রাতে একইভাবে উজানগ্রাম ইউনিয়নের দুর্বাচারা গ্রাম থেকে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে বিয়েবাড়ি থেকে ধরে অস্ত্র ও গুলি কোমরে গুঁজে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে। হাবিবুরের ভাই উজানগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, পরিকল্পিতভাবে হাবিবুরকে ফাঁসানো হয়েছে। এলাকায় তদন্ত করলে আসল কাহিনী বেরিয়ে আসবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা