kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

বড় দুই দলেই দ্বন্দ্ব, তবে বিএনপিতে প্রকাশ্য

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বড় দুই দলেই দ্বন্দ্ব, তবে বিএনপিতে প্রকাশ্য

সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর তীর ঘেঁঘা চার উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি। জেলার দুটি সংসদীয় আসন—রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া নিয়ে ঝালকাঠি-১ এবং সদর ও নলছিটি নিয়ে ঝালকাঠি-২। একসময় দুটি আসনই ছিল জাতীয় পার্টির। এরশাদ সরকারের পতনের পর তা বাগিয়ে নেয় বিএনপি। দীর্ঘদিন বিএনপির দখলে থাকা আসন দুটি ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের হাতে চলে যায়। সেই থেকে টানা তিন মেয়াদে দল ক্ষমতায় থাকায় জেলায় আওয়ামী লীগ এখন সুসংগঠিত। তবে স্বার্থগত বিষয় নিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। আছে নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধও। জেলায় বড় দুটি দলই চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। এর বাইরে অন্য দলগুলোর তেমন কোনো কার্যক্রম নেই।

আওয়ামী লীগ : জেলা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে বিরোধ না থাকলেও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে। সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনিরের মধ্যেও রয়েছে মতের অমিল। এ ছাড়া টেন্ডারবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রভাবেও দলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। স্বার্থগত এসব বিষয় নিয়ে যুবলীগের দুই পক্ষে ধাওয়াধাওয়ি ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে মাঝেমধ্যেই।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি আমির হোসেন আমু জেলায় দলীয় রাজনীতিতে নজর রাখছেন। জেলা আওয়ামী লীগের এই মুরব্বি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই। ঝালকাঠিতে দলের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। জেলা সম্মেলন সামনে রেখে বর্তমানে দল সুসংগঠিত।’

জেলা সাধারণ সম্পাদক পনির বলেন, ‘ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগে কোনো বিরোধ নেই। ডিসেম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সামনে রেখে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন হচ্ছে।’

অন্যদিকে ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামী লীগের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। স্থানীয় এমপি বজলুল হক হারুনের সঙ্গে নেতাকর্মীদের যোগাযোগ নেই বললেই চলে। রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়া হায়দার খান বলেন, ‘আমাদের এমপি মূলত একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ নন। তিনি এলাকায় দলের কাউকে একটা ফোনও দেন না। সত্যি বলতে, আমাদের এমপি আওয়ামী লীগের আদর্শ অন্তরে ধারণ করেন না।’

বজলুল হক হারুন এমপি বলেন, ‘আমাদের দলের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আর নেতাকর্মীদের মাঝে সামান্য ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে, এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

বিএনপি : জেলা বিএনপির সভাপতির পদ থেকে কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম সরে গেলেও মূল কলকাঠি এখনো তাঁর হাতেই। জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিও হচ্ছে তাঁর ইশারায়। বিভিন্ন সময় একপেশে কমিটি হওয়ায় বাদ পড়েছেন ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরা। একদিকে দল ক্ষমতায় না থাকার হতাশা, অন্যদিকে পদবঞ্চিত হয়ে অনেকেই সংগঠনে নিষ্ক্রিয়।

জেলায় বিএনপির এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, অন্য গ্রুপে সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুর। সভাপতি ও সম্পাদকের প্রকাশ্য বিরোধের ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও পালিত হচ্ছে পৃথকভাবে। আবার এই দুই গ্রুপের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করছেন জেলা বিএনপির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। অনেকে মনে করছেন, তাঁর কারণেই দলে দ্বন্দ্বের অবসান হচ্ছে না।

বর্তমানে জেলা বিএনপির দৃশ্যত কোনো কার্যালয় নেই। সভাপতি গ্রুপ আমতলা মোড়ে ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ মূল শহর থেকে একটু দূরে ব্র্যাক মোড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

মনিরুল ইসলাম নূপুর বলেন, ‘আমাদের প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তার মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তো আছেই। দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে যারা ঢাকা ও বরিশালে বাস করে জেলা কমিটিতে ঢুকতে চায়, তাদের পরিহার করতে হবে।

মোস্তফা কামাল মন্টু বলেন, বিএনপিতে কোনো বিরোধ নেই। জেলা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। চলতি নভেম্বর মাসেই কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সাধারণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। আপাতত একটি আহ্বায়ক কমিটি হতে পারে।

ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, ঝালকাঠি বিএনপিতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দল ভালো অবস্থানে আছে। তবে নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের নির্যাতন, মামলা-হামলা এখনো চলছে।

জাতীয় পার্টি : এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা ছাড়ার পর জেলায় জাতীয় পার্টি আর সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। কয়েক দফায় ভাঙনের মুখে নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগে। সর্বশেষ ২০০০ সালের ২৯ মে ঝালকাঠি-২ আসনে জাপার সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী নেতাকর্মীদের নিয়ে যোগ দেন বিএনপিতে। সেই থেকে দুর্বল অবস্থা নিয়ে কোনো রকমে টিকে আছে দলটি।

জাসদ : স্বাধীনতা-পরবর্তীতে ঝালকাঠিতে জাসদের শক্ত অবস্থান ছিল। বর্তমানে সংগঠনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া ছাড়া কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। শহরে তাদের কোনো কার্যালয়ও নেই। বর্তমান জেলা কমিটির সভাপতি ছোহরাব হোসেনের বাসায়ই চলে দলের কর্মকাণ্ড।

জামায়াত : একসময়ে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান থাকলেও বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে জেলা জামায়াত। তবে গোপনে সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা