kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিটিআরসির পদক্ষেপ

গ্রামীণফোনে আটকে গেছে বিনিয়োগ

বিশেষ প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রামীণফোনে আটকে গেছে বিনিয়োগ

পাওনা আদায় নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পদক্ষেপের কারণে গ্রামীণফোনে প্রায় ৪৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে গেছে। থেমে আছে এই মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সেবার মান বাড়ানোসহ নেটওয়ার্ক উন্নয়নও। গত ২২ জুলাই থেকে এই অচলাবস্থা চলছে।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইকেল ফলি গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন অভিযোগ করেন। পাওনা সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে তিনি দাবি করেন, বিটিআরসি  বেআইনিভাবে জোর করে গ্রামীণফোনের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে চাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি অডিটের মাধ্যমে পাওনা হিসাবে যে দাবি করেছে তা সঠিক নয়। গ্রামীণফোন এখনও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান আশা করে।

মাইকেল ফলি বলেন, গ্রামীণফোন একশ’ টাকা আয় করলে তা থেকে ৫৪ টাকা সরকারকে রাজস্ব হিসাবে দিয়ে আসছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেওয়া হয়েছে ছয় হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশে গ্রামীণফোন সর্বোচ্চ করদাতা প্রতিষ্ঠান। আমরা সরকারকে কর দেই না—এই ভুল ধারণা প্রচারের মাধ্যমে দেশের সাড়ে সাত কোটির বেশি গ্রাহকের অপারেটরের ব্রান্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।

গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করা হয়, গত ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা আদায় সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোর ওপর দু’মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। তা এখনও বহাল আছে। কিন্তু বিটিআরসির কাছে গ্রামীণফোনের  প্রায় ২০টি অনাপত্তিপত্রের আবেদন পড়ে আছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে বহু মূল্যবান যন্ত্র-সরঞ্জাম। বিটিআরসির অনাপত্তিপত্র ছাড়া শুল্ক বিভাগ তা ছাড়ছে না।

মাইকেল ফলি তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্টসহ কয়েকটি দেশ সফরের উল্লেখ করে বলেন, গ্রামীণফোনকে নিয়ে যা হচ্ছে তার খোঁজ-খবর রাখছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এতে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আগামী ১৪ নভেম্বর বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। বিটিআরসি আদালতের রায়ের মাধ্যমেই এর সমাধান চায়। এক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের অবস্থান জানতে চাইলে মাইকেল ফলি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

আদালতের রায় বিপক্ষে গেলে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন কীনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার গ্রামীণফোনের মালিক পক্ষের। আমরা গ্রামীণফোনের ম্যানেজমেন্ট থেকে এখনও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান পেতে আগ্রহী।’

মতবিনিময়কালে গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও সিএমও ইয়াসির আজমান এবং হেড অব রেগুলেটরি ও অ্যাক্টিং হেড অব কমিউনিকেশন্স হোসেন সাদাত উপস্থিত ছিলেন।

ইয়াসির আজমান বলেন, অডিটের মাধ্যমে বিটিআরসি যে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা দাবি করছে তার মূল পাওনা ছিল দুই হাজার তিনশ’ কোটি টাকা। পরে বিলম্ব ফি হিসেবে এটাকে বাড়ানো হয়েছে। মূল পাওনার হিসাবটিও ভুল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর উদ্যোগ, পরে গত ২১  অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব। কিন্তু  সে সিদ্ধান্ত অনুসারে সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত ও সই করার কাজটি  এখনও অসম্পূর্ণ।

প্রসঙ্গত, গ্রামীণফোনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা আদায় সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোর ওপর দু’মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। অন্যদিকে গত ২০ অক্টোবর বিটিআরসি ওই নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ৩১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেন যে,  বিটিআরসি’র দাবি করা ১২ হাজার ৫শ’ ৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে আপাতত কত টাকা দিতে পারবে তা গ্রামীণফোনকে আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে জানাতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা