kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

নূর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার কটূক্তি

মায়ের তীব্র প্রতিবাদ সারা দেশে নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মায়ের তীব্র প্রতিবাদ সারা দেশে নিন্দা

শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে গতকাল প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসে তাঁর পরিবার। ছবি : কালের কণ্ঠ

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে সমালোচনা আর নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়াসহ সর্বত্র। বুকে-পিঠে গণতন্ত্রের স্লোগান লিখে স্বৈরাচার এরশাদের পুলিশ বাহিনীর গুলিতে শহীদ হওয়া নূর হোসেনকে তিনি বলেছেন, ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর। এ ছাড়া তাঁর মন্তব্য—‘খালেদা জিয়া স্বৈরাচার হলে শেখ হাসিনাও স্বৈরাচার। বাকশাল করে বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছিলেন।’ 

নূর হোসেনকে নিয়ে ওই মন্তব্যের জন্য রাঙ্গার নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁকে বয়কট করার দাবিতে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসেন গণতন্ত্রের জন্য এই শহীদের বৃদ্ধা মাসহ পরিবারের সদস্যরা। রংপুরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রাঙ্গাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদও (ডাকসু) তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গত ১০ নভেম্বর রবিবার দলের বনানী কার্যালয়ে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত আলোচনাসভায় রাঙ্গা এসব কথা বলেন। দেশের গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দলগুলো ১০ নভেম্বর  ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’ হিসেবে পালন করে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি দিনটিকে পালন করে ‘গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে মাদকসেবী যুবক হিসেবে উল্লেখ করে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, “ইয়াবাখোর ফেনসিডিলখোর ছিল নূর হোসেন। তাকে নিয়ে নাচানাচি করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তাদের কাছে ইয়াবাখোর-ফেনসিডিলখোর ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব বেশি। তবে এরশাদের কাছে তারা গুরুত্ব পায়নি। ওই নূর হোসেন গণতন্ত্রের ‘গ’ও বুঝত না।”

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নূর হোসেনের মা মরিয়ম বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৩০ বছর পর এসে নূর হোসেনকে নিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গা কটূক্তি করেছেন, তাকে মাদকসেবী বলেছেন।’ মরিয়াম বেগম বলেন, কোনো মাদকসেবী দেশের জন্য জীবন দিতে পারে না। তিনি রাঙ্গাকে বয়কট করাসহ দেশে একটি আইন প্রণয়ন করার দাবি জানান, যাতে কেউ কোনো শহীদকে নিয়ে কটূক্তি করতে না পারে। তিনি রাঙ্গাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানান। এরশাদ স্বৈরাচার ছিলেন না উল্লেখ করে রাঙ্গা বলেন, ‘এরশাদ সাহেবের জীবন ছিল গণতন্ত্রের জন্য উৎসর্গীকৃত। তিনি গণতন্ত্রের স্বার্থেই ক্ষমতা ছেড়েছিলেন।’ স্বৈরাচার প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া যদি স্বৈরাচার হন তাহলে শেখ হাসিনাও স্বৈরাচার। 

রাঙ্গা আরো বলেন, ‘আজকে অনেকেই গণতন্ত্রের কথা বলেন, তবে আমি বলতে চাই বঙ্গবন্ধু বাকশাল করে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছিলেন।’ এ সময় রাঙ্গা নূর হোসেন ও ডা. মিলন হত্যার তদন্ত দাবি করেন। জাপা ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফয়সাল চিশতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু, হাবিবুর রহমান, সুনীল শুভ রায় প্রমুখ।

রংপুর থেকে কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, শহীদ নূর হোসেনকে ইয়াবাখোর ও শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বলায় রংপুর-১ আসনের এমপি রাঙ্গার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলেছেন দলটির নেতারা। গতকাল দুপুরে রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সভায় এই আলটিমেটাম দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল। তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিবকে সুবিধাবাদী ও লোভী নেতা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নূর হোসেন একটি স্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর তত্কালীন স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নিহত হন। তাঁর মতো গণতন্ত্রকামী যুবককে ইয়াবাখোর বলে মসিউর রহমান রাঙ্গা নিজের রাজনৈতিক অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ১৯৮৭ সালে দেশে ইয়াবার অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু রাঙ্গা সেটার অস্তিত্ব পেয়েছেন। রাঙ্গাকে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বলায় মসিউর রহমান রাঙ্গাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চেয়ে তাঁকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয় সভা থেকে। অন্যথায় রংপুরে রাঙ্গাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন দলটির নেতারা।

সভায় আরো বক্তব্য দেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি এ বি এম সিরাজুম মনির বাশার, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন প্রমুখ। এর আগে রাঙ্গার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে যুবলীগ রংপুর মহানগরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা