kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপকূলজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি, আছে নজরদারিও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



উপকূলজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি, আছে নজরদারিও

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। উপকূলীয় সব জেলা-উপজেলায় সতর্কতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে চার হাজার ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব, পুলিশ-আনসারের বিশেষ টিম জরুরি দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। মাঠে নেমেছে এক হাজার ৫৭৭টি মেডিক্যাল টিম।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা : ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় গতকাল দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঘূর্ণিঝড় আন্ত মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ব্রিফ করেন। সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল, তথ্য, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়কসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তুতি সম্পর্কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী জানান, উপকূলীয় সাতটি জেলা—খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়খালী, ভোলা ও পিরোজপুরে দুই হাজার করে মোট ১৪ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট এবং ১০ লাখ করে মোট ৭০ লাখ টাকা, ২০০ মেট্রিক টন করে এক হাজার ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাঁচ লাখ করে মোট ৩০ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিক টন করে মোট ৬০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ভোলা ও বাগেরহাটে গোখাদ্য বাবদ এক লাখ টাকা করে এবং শিশুখাদ্য বাবদ এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আরো বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কাজ করছেন ৫৫৫১৫ স্বেচ্ছাসেবক : উপকূলীয় ১৩টি জেলায় সাতটি জোনে সর্বমোট ৫৫ হাজার ৫১৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা প্রচার চলছে। সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দুর্গম এলাকা থেকে জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য নৌকা, ট্রলারসহ প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেড়িবাঁধ, ফসল, গবাদি পশু, মৎস্যসম্পদ ইত্যাদি ক্ষয়ক্ষতি রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল থেকে নিজের ও পরিবারের জীবন-সম্পদ রক্ষার জন্য নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত বুলেটিন ও সংকেতসমূহ সরকারি ও বেসরকারি রেডিও ও টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে ঘন ঘন প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। জননিরাপত্তা বিভাগ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

প্রস্তুত ১৫৭৭টি মেডিক্যাল টিম : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘূর্ির্ণঝড় বুলবুল-কবলিত এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক হাজার ৫৭৭টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। টিমে ডাক্তার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, স্বাস্থ্য সহকারী, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার ও অন্য কর্মচারীরাও দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে চালু করা চার হাজার ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ অন্যান্য এলাকা ভাগ করে এই মেডিক্যাল টিম কাজ করবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্গত এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সবার ছুটি বাতিল : ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলার প্রস্তুতি ও দুর্যোগ পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি গতকাল শনিবার এবং রবিবারের সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এসংক্রান্ত পৃথক দুটি অফিস আদেশ জারি করেছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এবং জনগণের এ সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনোজ কান্তি বড়ালকে ওই কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ লাখ পাত্র বিতরণ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের : এদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নাজমানারা খানুম কালের কণ্ঠকে জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১৯টি জেলার ৬৩টি উপজেলায় ধান বা চাল সংরক্ষণের জন্য পাঁচ লাখ পারিবারিক সাইলো (ধান বা চাল রাখার বিশেষ ধরনের ওয়াটারপ্রুফ প্লাস্টিকের পাত্র) বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত চার লাখ ৮৫ হাজার পারিবারিক সাইলো বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। বিতরণকৃত চার লাখ ৮৫ হাজারের মধ্যে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আক্রান্ত জেলাগুলোর ৩০টি উপজেলায় প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার পারিবারিক সাইলো বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল রুম খুলেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগের নম্বর ০১৩১৮২৩৪৫৬০ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর ০১৫৫২৩৫৩৪৩৩। ১০৯০ নম্বরে ফোন করেও ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ খবর জানা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা