kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ

যোগ্য প্রার্থীর চাপ দক্ষিণে উত্তরে বিকল্প কম

তৈমুর ফারুক তুষার    

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যোগ্য প্রার্থীর চাপ দক্ষিণে উত্তরে বিকল্প কম

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সম্মেলন হচ্ছে প্রায় ১৩ বছর পর। সংগঠনের এই দুটি শাখার শীর্ষ দুটি পদে থাকা নেতারা এবার বাদ পড়তে পারেন। সম্মেলন সামনে রেখে এরই মধ্যে সংগঠনটির পদপ্রত্যাশীরা ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। মহানগর দক্ষিণে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থী থাকলেও উত্তরে এমন প্রার্থীর সংখ্যা একেবারেই কম।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, মহানগর উত্তরের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য পদপ্রত্যাশীর সংখ্যা দুই-তিনজন। অথচ দক্ষিণে এ সংখ্যা আট-দশজন। আলোচনায় থাকা পদপ্রত্যাশীদের মধ্য থেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন।

২০০৬ সালের ৩১ মে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। উত্তরের সভাপতি নির্বাচিত হন মোবাশ্বের চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হন ফরিদুর রহমান খান ইরান। ইরান এখন ঢাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তখন দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হন দেবাশীষ বিশ্বাস। সাধারণ সম্পাদক হন আরিফুর রহমান টিটু।

আগামীকাল সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও পরের দিন মঙ্গলবার কৃষিবিদ মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আছেন সংগঠনটির একই শাখার বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ ও আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, আইনবিষয়ক সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সরকার এবং ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও শেখ আনিসুজ্জামান রানা ও হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকজন নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।

জানতে চাইলে তারিক সাঈদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাঁরা দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, যাঁরা ত্যাগী, যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন নেতাদের মধ্য থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়া সম্ভব হবে।’

কামরুল হাসান রিপন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সংগঠকদের নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সে আলোকেই ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন হবে বলে মনে করি।’

আনিসুর রহমান বলেন, ‘রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে যাঁরা সক্রিয় ছিলেন, যাঁরা দলের দুঃসময়ে পালিয়ে যান না, তাঁদের নিয়েই কমিটি হবে বলে আশা করি।’

ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব বাছাই নিয়ে তেমন চাপ নেই আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে হাতে গোনা কয়েকজন নেতা দৌড়ঝাঁপ করছেন। ফলে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে খুব বেশি বিকল্প হাতে নেই। যাঁরা পদ পেতে তৎপর রয়েছেন তাঁদের মধ্য থেকেই কাউকে নেতৃত্বে আনা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় এগিয়ে আছেন ছাত্রীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সভাপতি ইসহাক মিয়া ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পান্না, ছাত্রলীগের তিতুমীর কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি ও কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আমজাদ হোসেন।

জানতে চাইলে ইসহাক মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আছি। ছাত্রলীগ করেছি। এখন আওয়ামী লীগ সভাপতি যদি আমাকে কাজ করার সুযোগ দেন তাহলে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আমি বিগত ১৩ বছর ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তৎপর আছি। দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত থেকেছি। এখন দল যদি কাজের মূল্যায়ন করে আমাকে দায়িত্ব দেয়, তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার লক্ষ্য অর্জনে একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা