kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাদক আর কিশোর গ্যাংয়ে অতিষ্ঠ

স্বপন চৌধুরী, রংপুর    

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদক আর কিশোর গ্যাংয়ে অতিষ্ঠ

রংপুর নগর ও প্রায় সব উপজেলায় দেদার চলছে মাদক বেচাকেনা। চলছে জুয়ার আসর ও চোরাই পণ্যের হাট-বাজার। আর কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ নগরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাঁচদহঘাট এলাকাটি নদী দিয়ে আলাদা দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে। এখানে প্রতিদিন জমে ওঠে মদ-গাঁজা ও জুয়ার আসর। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই নদীর ওপারে চলে যায় অপরাধীরা। পুলিশের আর কিছু করার থাকে না। এ কারণে দুই থানা কিংবা দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদক বেচাকেনা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা।

পুলিশের নজরদারির অভাব এবং দুই থানার টানাপড়েনে এসব এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে থানা পুলিশকে জানালেও তারা এটাকে আমলে নিচ্ছে না।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, রংপুর জেলার আটটি থানা এলাকার সীমান্ত এলাকাগুলো অনেকটাই উপেক্ষিত। পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়াসহ জেলার থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় অনেক সময় পুলিশের তৎপরতা দেখা যায় না। সে কারণে মাদক কারবারিরা এসব এলাকাকে তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। পীরগাছা ও মিঠাপুকুর থানার সীমান্ত এলাকার মানুষজন জুয়াড়ি, মাতাল ও সন্ত্রাসীদের উৎপাতে অস্থির হয়ে উঠেছে।

জালালগঞ্জ, চৌধুরানী, ঠাকুরবাড়ী, কালুরঘাট ব্রিজ, কৈকুড়ি, ভেণ্ডাবাড়ীসহ বেশ কিছু এলাকায় এমন সমস্যা রয়েছে, যেখানে পুলিশ গেলেও অপরাধীরা চট করে অন্য থানা এলাকায় চলে যায়।

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কাঁচদহঘাট, ভেণ্ডাবাড়ীসহ বেশ কিছু এলাকায় আগে এ রকম সমস্যা ছিল, কিন্তু এখন আর নেই।’

একই দাবি পীরগাছা থানার ওসি রেজাউল করিমেরও। পীরগাছার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বলেও দাবি করেন তিনি।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকাগুলো নিয়ে আমাদের কোনো জটিলতা নেই। অপরাধীকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাতে পারে যেকোনো স্থানে। তার ওপর পুলিশের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে আগের তুলনায়।’

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম শুরু করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। কোতোয়ালি, তাজহাট, হাজিরহাট, হারাগাছ, মাহিগঞ্জ ও পরশুরাম—এই ছয়টি থানা এলাকায় বিভক্ত নগর। থানাগুলোতে গত এক বছরে শুধু মাদকসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৭৯৪টি। উদ্ধার হয়েছে ৫৪ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫৫ টাকা মূল্যের মাদকদব্য।

এর বাইরে হত্যা মামলা ১৬টি, অপহরণ মামলা ৩১টি, নারী নির্যাতন মামলা ৭৭টি, ধর্ষণ মামলা ৫২টি, গরু চুরি মামলা সাতটি, গাড়ি চুরি মামলা ১১টি, অন্যান্য চুরি মামলা ৪৩টি, অস্ত্র আইনে ৯টি ও অন্যান্য মামলা হয়েছে ৩৭৬টি।

এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও বস্তিতে গড়ে উঠছে কিশোর অপরাধীদের চক্র। এই চক্রের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। নেশার কারণে এরা চুরি, ছিনতাই, ইভ টিজিং, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য কেনার টাকা জোগাড় করতে প্রথমে ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এসব কিশোর। এরা নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়ি-দোকানে চুরি, রাস্তাঘাটে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ করছে নির্দ্বিধায়। এদের খপ্পরে পড়া বেশির ভাগ মানুষই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো অভিযোগ করে না। এসব কিশোরকে স্কুল-কলেজের মোড়ে দলবেঁধে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতেও দেখা যায়।

নগরীর লালবাগ, আসরতপুর, মাহিগঞ্জ, জুম্মাপাড়া, হনুমানতলা, মিস্ত্রিপাড়া, ধাপসহ বিভিন্ন এলাকায় ৩০টির বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের বেশির ভাগ সদস্য নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তান। এদের অনেকেই স্কুলের বারান্দায় পা রাখেনি।

জানা যায়, কিশোর অপরাধীদের বেশির ভাগই বস্তির বাসিন্দা। এদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মাদকাসক্ত।

র‌্যাব-১৩-এর রংপুর সিপিসি কম্পানি কমান্ডার মোতাহার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের বেশির ভাগই বস্তির বাসিন্দা ও নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তান। রংপুর নগরীর কিশোর অপরাধীদের তৎপরতা দমনে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজের যেকোনো অপরাধ বন্ধে আমরা সোচ্চার। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষাসহ জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা