kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সবিশেষ

সেতুর ওপর জাদুঘর!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতুর ওপর জাদুঘর!

নদীর ওপর সেতু। শুধু সেতু নয়, প্রদর্শনীস্থল, জাদুঘরের অংশ এবং এক ভাস্কর্যও বটে। আকার-আয়তন দেখলে অবাস্তব মনে হবে। নরওয়ের এক স্থাপত্য এমনই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে।

এই মুহূর্তে স্থাপত্যজগতে চর্চার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ‘দ্য টুইস্ট’। নরওয়ের ইয়েভনাকার শহরে টুইস্ট গ্যালারিতে একটি প্রদর্শনীস্থলের পাশাপাশি কিস্টেফস জাদুঘরের একটি শাখাও আছে। তারকা স্থপতি বিয়ার্কে ইঙ্গেলস ভবনটিকে কার্যত অসম্ভবভাবে ৯০ ডিগ্রি ডিজাইন করেছেন।

ইঙ্গেলস বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, শিল্পের জাদুঘরটির মধ্য দিয়ে নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া সম্ভব হলে দারুণ হবে। নদী পার হওয়ার সময় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়, নদীর ওপর দিয়ে  দেখা যায়। আমরা জগৎকে, মানুষের জীবনে, ভবিষ্যতের জন্য এমন কিছু দেওয়ার  সুযোগ পাই, যা এখনো তাদের নেই। আমার মতে, এটিই স্থাপত্যের মূল শক্তি।’

ডেনমার্কের এই দক্ষ শিল্পী ঘরে-বাইরে তাঁর স্বপ্নকে বাস্তব করে তুলেছেন। এ কাঠামোর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাচীর ধীরে ধীরে মেঝে ও সিলিং হয়ে ওঠে। এর বিপরীতটিও ঘটে। জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আগেই তাঁর সৃষ্টিকর্ম সাড়া ফেলে দিয়েছিল। সবাই এর উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। ডেনমার্কের যুবরাজ ও নরওয়ের রানি সোনিয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রান্ডসেলভা নদীর ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ এই ভাস্কর্য শোভা পাচ্ছে। সেটি একাধারে সেতু ও ভাস্কর্য। সেই সঙ্গে কিস্টেফস মিউজিয়ামের দুটি অংশের মধ্যেও সংযোগ ঘটাচ্ছে। ১৯৯৯ সালে এই ভাস্কর্যকে ঘিরে পার্ক খোলা হয়েছিল। আগে সেখানে একটি মিল বা কারখানা ছিল। আশপাশের জঙ্গল থেকে গাছ কেটে চারদিকে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখা হতো। এখন সেখানে টোনি ক্র্যাগ ও অনীশ কাপুরের মতো শিল্পীদের মাস্টারপিস শোভা পাচ্ছে। খ্যাতিমান মানুষদের তালিকায় এখন বিয়ার্কে ইঙ্গেলসের নামও যোগ হয়েছে। তাঁর মতে, ‘কোনো ভবন তৈরি করার সময় সেই পরিসরের মধ্যে নিজের স্বপ্নের জগতের কাছাকাছি কিছু সৃষ্টি করার সুযোগ থাকে।’

বিয়ার্কে ইঙ্গেলসের ডিজাইন অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছে। যেমন নিউ ইয়র্ক শহরে এক আকাশচুম্বী অট্টালিকা। তিনি কার্যকরী ও টেকসই নকশার পাশাপাশি উদ্ভাবনী ও কৌতুকের ছোঁয়াও রাখতে চেয়েছিলেন। ডেনমার্কের লেগো মিউজিয়ামেও এই ভাবনার ছাপ পাওয়া যায়।

ইঙ্গেলসের কম্পানি বিয়ার্কে ইঙ্গেলস গ্রুপ বা ‘বিগ’-এ ৫০০ কর্মী সক্রিয় আছেন। বর্তমানে এই কম্পানি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দ্বিতীয় টাওয়ারের পরিকল্পনা করছে। ইঙ্গেলস বলেন, ‘বলতে পারেন স্থপতির অর্থনৈতিক ক্ষমতা থাকে না। কারণ স্থপতিরা তো আর চেক লেখেন না! রাজনৈতিক ক্ষমতাও থাকে না। কারণ আমরা তো নিয়ম-কানুন তৈরি করি না! কিন্তু আমাদের আইডিয়ার ক্ষমতা রয়েছে। যখনই আমরা ভবিষ্যতের জন্য কিছু ডিজাইন করি তখনই আমরা ভবিষ্যতের জন্য কোনো উপহার দেওয়ার সুযোগ পাই।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা