kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্যের গবেষণাগার হচ্ছে

খাদ্যে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও রাসায়নিক রোধ হবে

শাহাদত হোসেন, শেকৃবি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্যের গবেষণাগার হচ্ছে

নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ঢাকার সাভারে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন উপকরণ ও প্রাণিখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর পর আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গবেষণাগার নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রকল্প ব্যয় ৬৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ১০৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, গবেষণাগারটি ঠিকমতো কাজ করলে দেশে প্রাণিজাত খাদ্যের ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ ও প্রাণিজাত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ১ জুলাই শুরু হয়। এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন। কিন্তু পরে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আধুনিক এ গবেষণাগারের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদের ফিড অ্যাডিটিভসের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া প্রাণিজাত খাদ্য তথা মাংস, ডিম ও দুধের নমুনায় ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ, হরমোন, স্টেরয়েড ইত্যাদির রেসিডিউ পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ থেকে উৎপাদিত পণ্য ও উপজাতের রুটিন অ্যানালিসিস পরিচালনা করবে। আধুনিক গবেষণাগারটি প্রাণিসম্পদের খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ এবং প্রাণিজাত পণ্যের গুণগত মানের সনদ দেবে।

প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ছয়তলাবিশিষ্ট একটি মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাব, চারতলা একটি ডরমিটরি ভবন, ডিপটিউবওয়েল, গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য গ্যাসের সংরক্ষণাগার তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। গবেষণাগারটিতে ক্রমান্বয়ে স্থাপিত হচ্ছে ২৩০টি সর্বাধুনিক মেশিন।

এরই মধ্যে গবেষণাগারে ‘নেয়ার ইনফ্রারেড রিফ্লেক্ট্যান্স স্পেক্টোস্কপি’ (এনআইআরএস) মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে পশু-পাখির খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করে এর পুষ্টিমান সহজেই নির্ণয় করা যাবে। এ ছাড়া স্থাপন করা হয়েছে ‘হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি’ (এইচপিএলসি) মেশিন। এ যন্ত্রের মাধ্যমে পশু-পাখির খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ প্রোমোটরের পরিমাণ নির্ণয় করা যাবে। উৎপাদিত দুধ, ডিম, মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিডিউ কী পরিমাণ আছে তা শনাক্ত করা যাবে ‘লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি মাস স্পেক্টোমেট্রি’ মেশিন দিয়ে। এ ছাড়া দুধ, ডিম ও মাংসের ক্ষতিকর ধাতব পদার্থ শনাক্তকরণে স্থাপন করা হয়েছে ‘অটোমেটিক অ্যাবজরপশন স্পেক্টোমেট্রি মেশিন। দুধের গুণাগুণ শনাক্তকরণে ‘মিল্ক এনালাইজার’ স্থাপন করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সামছুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ল্যাবরেটরিতে কিছু কিছু পরীক্ষার কাজ শুরু হবে। তবে জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গরূপে সব পরীক্ষার কাজ শুরু হবে। এ ল্যাবরেটরি থেকে নির্ধারিত ফির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খামারিরা পরীক্ষা করাতে পারবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের সব উপকরণের মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত রোগ-জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক ও জৈব রাসায়নিক পদার্থের অনুপ্রবেশকে রোধ করা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা