kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে পর্যটন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে পর্যটন

পর্যটনে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কনভ্যাল সাংমা। তিনি বলেছেন, ‘এ জন্য মেঘালয় ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটনশিল্পে সরকারি ও বেসরকারি খাতে সহযোগিতা বিনিময় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি পর্যটন দুই দেশের মানুষকে আরো কাছাকাছি আনবে, যা পরবর্তী সময়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।’

বৃহম্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে এক  মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী সাংমা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের ট্যুর অপারেটর সংগঠনগুলোর মধ্যে এমওইউ (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হয়। এতে চুক্তি বিনিময় করেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব মেঘালয়ের (টোয়াম) সভাপতি ই বি ব্লা এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডি ইনবাউন্ড) সভাপতি রেজাউল একরাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটনের অবকাঠামোগত নানা সমস্যা তুলে ধরেন বিডি ইনবাউন্ডের সভাপতি রেজাউল একরাম। অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যান্সেরি প্রধান মিথুন টি আরসহ দুই দেশের পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আবার বসব এবং পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের উপায় বের করব।’

অনুষ্ঠানে মেঘালয়ের মুখ্যসচিব ড. পি শাকিল আহমেদ বলেন, ‘একমাত্র মেঘালয়ে আপনারা পাবেন এসি (এয়ারকন্ডিশনার) ছাড়াই প্রাকৃতিক এসির পরিবেশ। এখানে পাহাড়, ঝরনা ও অসাধারণ প্রকৃতি পর্যটকদের মন কাড়বে। আমরা আপনাদের সেবা দেওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী।’

টোয়াম সভাপতি ই বি ব্লা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ২১ লাখ পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেন। এসব পর্যটক কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালুরু গেলেও মেঘালয়ে কম আসেন। তার পরও আমাদের মোট পর্যটকের ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশি। তাই আমরা এই পর্যটক বৃদ্ধির পাশাপাশি মেঘালয় থেকেও বাংলাদেশে পর্যটক বৃদ্ধি করতে অবকাঠামোসহ অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করতে চাই।’

বিডি ইনবাউন্ড সভাপতি রেজাউল বলেন, ‘ভারত ভিসা সহজ করলেও মেঘালয়ের জন্য পৃথক এনডোর্সমেন্ট প্রয়োজন হয়।’ তিনি জানান, তামাবিল বর্ডারে খেয়াল খুশিমতো ভাড়া আদায় করে স্থানীয়রা।

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী সাংমা বলেন, ‘দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়েও এ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’ টোয়াব পরিচালক তৌফিক বলেন, ‘বাংলাদেশে কক্সবাজার, সুন্দরবনসহ বেশ কয়েকটি বিশ্বসেরা নিদর্শন আছে যা দেখতে মেঘালয়ের পর্যটকরা আসতে পারেন।’ টেয়াব পরামর্শক সৈয়দ গোলাম কাদির বলেন, ‘বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণে ভারতের সঙ্গে পর্যটন বিকাশের ব্যাপক সুযোগ আছে। এ জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সকল স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত উন্মুক্ত করতে হবে।’

টোয়াব সভাপতি তৌফিক বলেন, ‘ভারত থেকে আরো বেশি পর্যটক বাংলাদেশে আনতে সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরো গতিশীল হতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা