kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অটোরিকশাকে হেঁচড়ে নিয়ে যায় মিনিবাস

পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই দম্পতিসহ নিহত ৭
পাঁচ জেলায় আরো ছয়জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অটোরিকশাকে হেঁচড়ে নিয়ে যায় মিনিবাস

পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে গতকাল মিনিবাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাত আরোহী নিহত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মিনিবাসে পিষ্ট হয়ে অটোরিকশার সাত আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মাগুরমারী এলাকায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই দম্পতিও রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অটোরিকশাকে বাসটি অনেক দূর পর্যন্ত হেঁচড়ে নিয়ে যায়।

এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে কেরানীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে বাবা ও ছেলের। প্রতিনিধিদের খবরে বিস্তারিত—

পঞ্চগড় : দুর্ঘটনাটি ঘটে একটি মিনিবাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার সুরিভিটা এলাকার আকবর আলী (৭০), তাঁর স্ত্রী নুরিমা বেগম (৫৫), তেঁতুলিয়া উপজেলা শালবাহান মাঝিপাড়া এলাকার লাবু ইসলাম (২৯), তাঁর স্ত্রী মুক্তি (১৯), সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের চেকরমারী এলাকার ইজি বাইকচালক রফিক (২৮), একই উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের রায়পাড়া এলাকার ফরহাদ হোসেন মাকুদ (৪৫) এবং সাতমেরা ইউনিয়নের সাহেবজোত এলাকার আকবর আলীর স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪২)।

পুলিশ জানায়, কাজী ব্রাদার্সের বাসটি তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। মাগুরমারী এলাকায় একটি ছাগলকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাকে চাপা দেয়। তাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় অটোরিকশাটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাঁচজনের। দুজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে।

মাগুরমারী এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অটোরিকশাকে প্রায় ১০০ মিটার হেঁচড়ে নিয়ে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই আমরা পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করি।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ২০ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিক অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে নিহতদের পরিবারকে।

হাতীবান্ধা : দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার শস্যগুদাম এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে। নিহত খায়রুল ইসলাম (৩৫) পাটগ্রাম উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, খায়রুল মোটরসাইকেলে করে লালমনিরহাট থেকে পাটগ্রাম যাচ্ছিলেন। পথে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

গাইবান্ধা : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকালে, পলাশবাড়ীর মহেশপুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে। সেখানে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি লেগুনা ছিটকে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। তাতে নিহত হন লেগুনার চালক আরিফ মিয়া (১৯)। বাসটিও সড়কের ধারে উল্টে গেলে আহত হয় ১৫ যাত্রী। লেগুনায় কোনো যাত্রী ছিল না।

হিলি : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল দুপুরে, নবাবগঞ্জের শওগুনখোলা গ্রামে। সেখানে ট্রাক্টরের চাপায় রুখসানা (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি শওগুনখোলা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, রুখসানা সড়কের পাশে বসে ছিলেন। ট্রাক্টরের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁকে চাপা দেয়।

কেরানীগঞ্জ : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল দুপুর ২টার দিকে কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরে। সেখানে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী আসাদুল হক (৪০) এবং তাঁর ছেলে সোহান (৬)। আহত হয়েছেন স্ত্রী রেশমা (৩০)। আসাদুলের মামাশ্বশুর ওয়াহেদুল ইসলাম জানান, আসাদুলের গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার বাগমারা এলাকায়। তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় থাকতেন।

আহত রেশমা জানান, তাঁরা মোটরসাইকেলে করে ঢাকা থেকে নবাবগঞ্জ যাচ্ছিলেন। কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর পোড়াহাটি এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়।

পটিয়া : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকালে, উপজেলার গৈড়লারটেক এলাকায়। সেখানে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। নিহত রনজিত বড়ুয়া (৫৫) অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার কুলকুরমাই গ্রামের বাসিন্দা।

নবীগঞ্জ : নবীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৩০ যাত্রী আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে উপজেলার কাজিরবাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা