kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তীব্র ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী সংযোগ সড়ক হলো না ছয় বছরেও

শাখাওয়াত হোসাইন   

৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী সংযোগ সড়ক হলো না ছয় বছরেও

হাতিরঝিল সংলগ্ন উত্তর বেগুনবাড়ীর এ এলাকা দিয়েই সংযোগ সড়কটি হওয়ার কথা। কিন্তু দখলদারদের উচ্ছেদ আর কিছু জায়গা অধিগ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় ছয় বছরেও সড়কটি আর হলো না। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুই পাশেই সড়ক। এক পাশে হাতিরঝিল, আরেক পাশে বেগুনবাড়ীর বউবাজার ও তেজগাঁও শিল্প এলাকা সড়ক। মাঝখানে দখলদারদের বাজার, দোকান। আর এখানেই থেমে আছে গোটা এলাকার মানুষের ভাগ্য। কিছু দখলদারের কাছে বিশাল এলাকার মানুষ যেন একরকম জিম্মি হয়ে আছে।

প্রায় ছয় বছর আগে নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হয় হাতিরঝিল প্রকল্প। প্রকল্পটির পাশের এলাকার বাসিন্দাদের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনলেও বেগুনবাড়ী ও তেজগাঁও শিল্প এলাকার বাসিন্দারা এখনো রয়েছে ভোগান্তিতে। সড়কটি নির্মাণে এখনো ভূমি অধিগ্রহণের কাজই শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। হাতিরঝিল প্রকল্পে যেতে বেগুনবাড়ীর বউবাজার দিয়ে আছে আড়াই ফুট প্রস্থের সরু একটি গলি।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি হাতিরঝিল প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পরই নগরবাসীর ব্যবহারের জন্য প্রকল্পটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শুরুর নকশা অনুযায়ী সব কটি সংযোগ সড়ক সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বেগুনবাড়ীর বাসিন্দাদের যাতায়াতের বিষয়টি চিন্তা করে ২০১৭ সালের শুরু দিকে এলাকাটিতে একটি সংযোগ সড়ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ৬০ ফুট প্রস্থের সড়কটি ঘিরে এলাকাবাসী ছিল বেশ উত্ফুল্ল। হাতিরঝিল প্রকল্প থেকে রানার গ্রুপের অফিস পর্যন্ত রাস্তাটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। তেজগাঁও শিল্প এলাকা মৌজার ওই এলাকাটিতে একটি রাস্তা এমনিতেই ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় সেই রাস্তা দখল করে তৈরি করা হয়েছে স্থাপনা। এ ছাড়া দুটি দাগের জমির মালিক ঢাকা ওয়াসা ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। সংস্থা দুটি এসব জমি ইজারা দিয়েছে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে। ব্যক্তি ও সরকার মালিকানাধীন ৯টি দাগের জমি পড়েছে

রাজউকের নকশায়। এসব জমি অধিগ্রহণের জন্য গত বছরের শেষের দিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় রাজউক। ভূমি অধিগ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিসে একই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে গত বছরেই। কিন্তু প্রায় এক বছর সময়ে মাত্র একটি নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসক অফিস। তেজগাঁও শিল্প এলাকার মৌজার ৬১১০-১৪ পর্যন্ত পাঁচটি দাগ, ৬১১৬, ৬১৩৩, ৬১১৪ এবং ৬৪৩১ সহ মোট ৯টি দাগের জমির মালিককে ৪/১ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব দাগের সাড়ে ৮৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে জেলা প্রশাসক অফিসকে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি নোটিশ দেওয়ার পর আর কোনো নোটিশ জারি করা হয়নি। তবে খুব শিগগির ৭ ধারায় নোটিশ পাঠানো হবে বলে হাতিরঝিল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

হাতিরঝিল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রায়হানুল ফেরদৌস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৭ ধারায় নোটিশ পাঠানো হবে জমির মালিককে। সব ঠিক থাকলে এক মাসের মধ্যে সড়কটির কাজ শুরু করতে চাই। বউবাজারের সড়কটি ছাড়া বাকি সব সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বউবাজার, রানার গ্রুপ এবং বেগুনবাড়ী এলাকার হাজার হাজার মানুষ হাতিরঝিল প্রকল্পে যাতায়াত করে একটি সরু গলি দিয়ে। একটি মোটরসাইকেল নিয়েও যাতায়াত করা যায় না গলিটি দিয়ে। এ ছাড়া কুনিপাড়া এলাকার আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত করেন ছোট এই সড়কটি দিয়েই। হাতিরঝিল প্রকল্প হওয়ার পর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হওয়ার স্বপ্ন দেখা উত্তর  বেগুনবাড়ী, কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে চাপা ক্ষোভ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটি সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে তারা।

দক্ষিণ বেগুনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সড়ক আছে, তবু আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। কিছু দখলদার বাজার বসিয়েছে। আমরা শুনছি, সড়ক বড় হবে। তা হোক। এখন যা আছে, যতটুকু আছে তা খুলে দিলেও তো আমরা হাতিরঝিলে উঠতে পারি। হাজারো মানুষের ভোগান্তি কমে। আমরা চাই এ সড়কটি দ্রুত খুলে দেওয়া হোক। গোটা তেজগাঁও শিল্প এলাকার মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায়।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা