kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাগরে গভীর নিম্নচাপ

হানা দিতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হানা দিতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

অক্টোবর-নভেম্বর সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার সময়। সূর্য এক গোলার্ধ থেকে আরেক গোলার্ধে যাওয়ার এই সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের (ভারত মহাসাগর) তাপমাত্রা থাকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে; যা ঘূর্ণিঝড় তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। গতকাল বুধবার বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। লঘুচাপটি প্রথমে নিম্নচাপ, এরপর তা গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গভীর নিম্নচাপটি যদি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তাহলে এর নাম দেওয়া হবে ‘বুলবুল’। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের আট দেশের আবহাওয়া অফিস ঘূর্ণিঝড়ের নামটি ঠিক করে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত আনতে পারে বলেও মনে করছে আবহাওয়া অফিস।

গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়া কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। তবে এখনো ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়নি। অবশ্য সেই সম্ভাবনা আছে। এটি ভারতের ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত আনতে পারে। গভীর নিম্নচাপ যখন ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে তখন সংকেতের মাত্রা বাড়ানো হবে। ঘূর্ণিঝড়টি গতি পরিবর্তন করে বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা আছে।

এদিকে সাগরে গভীর নিম্নচাপের পর থেকে আবহাওয়া অফিস নিয়মিত বুলেটিন দিয়ে আসছে। সর্বশেষ গতকাল সন্ধ্যা ৭টার বুলেটিনে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি কার্যত স্থির থেকে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি এখন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। গভীর নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। দেশের উপকূলীয় কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে ভারতের আবহাওয়া অফিস থেকেও বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরই মধ্যে ওডিশার কয়েকটি এলাকার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে কখন এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অফিস। আগামী সোমবার নাগাদ ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ হয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে বাংলাদেশ ও ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন। এর আগে গত মে মাসের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ওই এলাকা দিয়েই উপকূল অতিক্রম করে ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা