kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইসিসিবিতে ডেনিম এক্সপো

অপরূপ রং ডিজাইনের মোহনীয় উপস্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপরূপ রং ডিজাইনের মোহনীয় উপস্থাপন

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গতকাল ডেনিম এক্সপোতে দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কোথাও নীল, কোথাও বা হালকা নীল, কোথাও ফ্যাকাশে (ফেড) আবার কোথাও চিত্তাকর্ষক রাফ অ্যান্ড টাফ ধাঁচের শৈল্পিক ছেঁড়াফাটা (টর্নড) রূপ দেওয়া ডেনিমের রাজকীয় উপস্থাপন। মেলার প্রদর্শনীস্থলগুলো বিশ্বখ্যাত ডেনিম পোশাকপ্রেমীদের জন্য যেন অমোঘ আকর্ষণের পাখা ছড়িয়ে দিয়েছে। নীল, সবুজাভ, কালো, ধূসর, লালচে ডেনিম জিন্সের মোহময়তা যেন একই সঙ্গে পৌরুষদীপ্ত আর রমণীয়তায় আমোদিত করে তুলেছিল এক্সপোতে আগতদের। এটা বিনোদনমূলক কোনো অনুষ্ঠানের উৎসবস্থল নয়; কিন্তু দর্শনার্থীদের চোখে-মুখে ছিল দৃষ্টিসুখকর কোনো শিল্পসৃষ্টি দেখে আমোদিত হওয়ার তৃপ্তি। এমন দৃশ্য বিরাজ করেছে গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)।

দেশের সর্ববৃহৎ ডেনিম পণ্যের ১১তম প্রদর্শনী বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো-২০১৯-এর এ আয়োজন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রদর্শনীর শেষ দিন গতকাল বুধবার নানা রঙের ডেনিমের মতো নানা দেশ ও বর্ণের মানুষেরও উৎসবমুখর পদচারণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের রেসপনসিবিলিটি শীর্ষক থিম নিয়ে প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, ভারত, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, চীনসহ ১১টি দেশের ৯৯টি প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ডেনিম পণ্য নিয়ে হাজির হয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাপারেলের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোস্তাফিজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ডেনিম পণ্য।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের প্রবৃদ্ধির অপার সম্ভাবনা প্রদর্শন করা এক্সপোর মূল উদ্দেশ্য। এ ছাড়া সাসটেইনেবিলিটি রোডম্যাপ নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ফুটে উঠেছে। সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ফোরামে পরে এই রোডম্যাপের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।’

সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ফোরামের এবারের দ্বিতীয় সংস্করণে সাসটেইনেবিলিটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আটটি গবেষণালব্ধ পেপারও উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া সাসটেইনেবল অ্যাপারেল ফোরামের আলোচনায় দেশের টেকসই পোশাকশিল্পে রোডম্যাপের অগ্রগতি পর্যালোচনা হয় বলে জানান তিনি।

মেলায় আসা চীনের ফ্যাশন হটলাইনের এক্সিকিউটিভ পাম থি ভিনহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ব্র্যান্ডকে ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে এক্সপোতে অংশ নিয়েছি।’ পাকিস্তানের আর্টিস্টিক ফেব্রিকসের কর্মকর্তা সোহাইল খান বলেন, ‘পাকিস্তান ডেনিম পণ্য উৎপাদনে অন্যতম—এটি বাংলাদেশসহ বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে এক্সপোতে অংশ নেওয়া।’

বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, বাংলাদেশ ডেনিম শিল্পের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে এবারের ডেনিম এক্সপোর অংশীদার হয়েছে বিশ্বের অন্যতম ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ তৈরি পোশাক ক্রেতা সুইডেনের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এইচঅ্যান্ডএম।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এইচঅ্যান্ডএমের এই অংশীদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি পোশাকের সর্ববৃহৎ ক্রেতা তারা। যার অংশীদারি বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ।’

মেলায় ঘুরে দেখা যায়, ফোরামে আসা বিদেশি বক্তা ও দর্শনার্থীদের জন্য বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ পরিবেশবান্ধব কারখানা পরিদর্শনের আয়োজন করেছে, যাতে তারা বাংলাদেশের কারখানা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা