kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মন্ত্রিসভায় নীতিমালা অনুমোদন

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাধাহীন বিনিয়োগ করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাধাহীন বিনিয়োগ করবে সরকার

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে টাকার কোনো ঘাটতি হবে না। এ খাতে যত টাকা প্রয়োজন হয়, ততই বিনিয়োগ করবে সরকার। এসংক্রান্ত নতুন একটি নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বর্তমানে ২৩টি মন্ত্রণালয় মানবসম্পদ উন্নয়নে বিভিন্নভাবে তহবিল দিয়ে থাকে। এখন থেকে এসব তহবিল সমন্বিতভাবে বরাদ্দের জন্য ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল কম্পানি’ নামে একটি কম্পানি গঠন করেছে সরকার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যেসব প্রস্তাব আসবে, নতুন গঠিত কম্পানি সেগুলো মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নীতিমালা-২০১৯’-এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, জনশক্তি একটি জাতির অগ্রগতির জন্য খুবই অপরিহার্য। এ কারণে দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদার জন্য দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তিনি জানান, প্রশিক্ষণার্থী, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ দেশে-বিদেশে কাজ করা বিভিন্ন ধরনের কর্মীরা এ তহবিলের অধীন দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা পাবেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল কম্পানি গঠন করেছে। অর্থ বরাদ্দের জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করবে এ কম্পানি। তিনি বলেন, জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার চলমান প্রক্রিয়া আরো বেগবান হবে। এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, এখনো তহবিলে সুনির্দিষ্ট কোনো অঙ্কের তহবিলের কথা বলা হয়নি। তবে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত কাজে টাকার কোনো ঘাটতি হবে না।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত ৫৮ শতাংশ : গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এ তিন মাসে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৮.৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের গত ৯ মাসে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৫.৭৮ শতাংশ। মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০১৯ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন গতকালের মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারটি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৫৩টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৩১টি। ২২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঁচটি নীতি বা কৌশল, দুটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক অনুমোদিত হয়েছে। এই সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে পাঁচটি।

তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর হাতে : আইসিটি খাতে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া তিনটি সম্মাননা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগুলো হলো ‘ডাব্লিউআইটিএসএ গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’, ‘ডিসিডি এপিএসি অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ ও ‘গোভইনসাইডার ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক ও মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম পুরস্কারগুলো প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা